কুষ্টিয়ায় অস্ত্রসহ যুবক আটক, গণপিটুনি পর পুলিশে সোপর্দ
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ এক যুবককে আটক করে গণপিটুনির পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের কাবিল মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আটক ব্যক্তির নাম ফরিদ হোসেন (৩৫)। তিনি ওই ইউনিয়নের নদীরকূল মাঠপাড়া এলাকার মৃত বুড়ো মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনকভাবে এলাকায় চলাফেরা করছিলেন এবং তার আচরণে অনেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে কাবিল মোড় এলাকায় ফরিদ হোসেনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় কয়েকজনের সন্দেহ হয়। পরে তারা তাকে আটক করে দেহ তল্লাশি চালায়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি রিভলবার এবং ছয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তাকে মারধর করেন। পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত অবস্থায় ফরিদ হোসেনকে উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফরিদ হোসেন কথিত ‘শিপন বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাদের ধারণা, তার কাছে আরও অবৈধ অস্ত্র থাকতে পারে এবং এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এ কারণে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে তার গতিবিধি নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, একটি রিভলবার ও ছয়টি গুলিসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়দের মারধরের কারণে তিনি আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রটির উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো সতর্ক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।