খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে নতুন বছরের শুরুতেই সব ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরু চালের জন্য পরিচিত এই মোকামে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে মাঝারি ও মোটা চালের বাজারেও। গত কয়েক দিনে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ায় ভোক্তা পর্যায়ে অসন্তোষ ও উদ্বেগ বেড়েছে। বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
মোকাম ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাসমতি চালের দাম কেজিতে ৯২ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মিনিকেট চাল ৭৪ টাকা থেকে বেড়ে ৭৭ টাকা, কাজললতা ৬৬ টাকা থেকে ৬৮ টাকা, আটাশ ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ টাকা থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধি গত তিন থেকে চার দিনের মধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
| চালের ধরন | আগের দাম (টাকা/কেজি) | বর্তমান দাম (টাকা/কেজি) |
|---|---|---|
| বাসমতি | ৯২ | ৯৪ |
| মিনিকেট | ৭৪ | ৭৭ |
| কাজললতা | ৬৬ | ৬৮ |
| আটাশ | ৫৮ | ৬০ |
| মোটা চাল | ৫০ | ৫২ |
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন বাজার স্থিতিশীল থাকার পর হঠাৎ দাম বাড়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে তাদের বিবাদ তৈরি হচ্ছে। অনেক বিক্রেতার দাবি, বর্তমানে পর্যাপ্ত চাল ও নতুন ধান বাজারে থাকলেও মিলগেট পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে চাল বিক্রি করছেন। দোকান পর্যায়ে ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করেও ক্রেতাদের অসন্তোষ কমানো যাচ্ছে না।
অন্যদিকে চালকল মালিকদের বক্তব্য, ধানের দাম মণপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প ছিল না। খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিপুল পরিমাণ চাল সরবরাহ করতে গিয়ে মিলের গুদাম শূন্য হয়ে পড়ে। এতে নতুন করে ধান সংগ্রহের চাপ বেড়ে যায় এবং এক কৃষকের কাছে একাধিক মিলারের চাহিদা তৈরি হওয়ায় ধানের দামও বাড়ে। তাদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে কেজিতে ২ টাকা দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়।
ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। রিকশাচালক ও দিনমজুররা বলছেন, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে চালের দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চাল যেহেতু প্রধান খাদ্য, তাই এর দাম বাড়লে জীবনযাত্রার ব্যয় সরাসরি বেড়ে যায়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—রমজানের আগে কোনোভাবেই চালের দাম বাড়ানো যাবে না। ধান সংগ্রহ এলাকায় দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়লে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং, মজুত পরিস্থিতির স্বচ্ছতা এবং প্রয়োজনে আমদানি উদ্যোগ নেওয়া গেলে কুষ্টিয়ার মোকামসহ সারাদেশের চালের বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।