খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
গাজার উদ্দেশে মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রারত একটি বেসামরিক জাহাজে ইসরায়েল ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (FFC)। সংগঠনটি শুক্রবার(২ মে) এক বিবৃতিতে জানায়, মাল্টা উপকূল থেকে ১৪ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটির সম্মুখভাগে সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে দুই দফা হামলা চালানো হয়। এতে আগুন ধরে যায় এবং কাঠামোগত ক্ষতি হয়। হামলার ফলে জাহাজটির জেনারেটর বিকল হয়ে পড়ে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং জাহাজটি ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, জাহাজের ওপর আগুন এবং বিস্ফোরণের দৃশ্য। জাহাজটিতে ১২ জন নাবিক ও ৪ জন বেসামরিক নাগরিক ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে মাল্টা সরকার। তাদের সবাই সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়েছে এবং জাহাজটিকে সাহায্য করতে একটি টাগবোট পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে এখনো ইসরায়েল কোনো মন্তব্য করেনি।
ফ্লোটিলা কোয়ালিশন জানিয়েছে, ২১টি দেশের অধিকারকর্মীরা ওই জাহাজে ছিলেন। গাজার দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং চলমান মানবিক সংকট মোকাবেলায় তারা খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। সংগঠনটি বলছে, ইসরায়েলের বেআইনি অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
তাদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “গাজায় চলমান অবরোধ ও বেসামরিক জাহাজে হামলার দায়ে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের বিশ্বজুড়ে তলব করতে হবে।”
ইসরায়েল মার্চের মাঝামাঝি থেকে গাজায় ফের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে কঠোর অবরোধ—জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধসহ কোনো ধরনের ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
গাজায় কাজ করা ত্রাণ সংস্থাগুলোর দাবি, তাদের হাতে থাকা খাদ্য ও ওষুধের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রান্নার জন্য স্থাপিত কমিউনিটি কিচেনগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইসরায়েলি পক্ষের দাবি, হামাস সদস্যরা ত্রাণসামগ্রী নিজেদের কাছে রেখে দেন বা বিক্রি করে দেন। তবে ত্রাণ বিতরণে নিয়োজিত সংস্থাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি বলে জানায়।
এটি প্রথমবার নয় যে, গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রারত ফ্লোটিলা জাহাজে হামলা হয়েছে। ২০১০ সালে তুরস্ক থেকে গাজা অভিমুখে যাত্রা করা ‘মাভি মারমারা’ জাহাজে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় ১০ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হন। ওই সময় ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় তোলে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে আক্রমণের পর থেকে চলমান সংঘাতে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৫২,৪১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২,৩২৬ জন নিহত হয়েছেন গত মার্চের পর নতুন অভিযানে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
খবরওয়ালা/এমবি