খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢল শুরু হয়েছে গাবতলী বাস টার্মিনালে। আনন্দময় এ যাত্রাকে মলিন করছে বাড়তি ভাড়া। চলতি বছরও যাত্রীদেরকে রেগুলার ভাড়ার তুলনায় প্রায় ৩০০-৪০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্য ঈদভ্রমণকে অর্থনৈতিকভাবে কষ্টসাধ্য করে তুলেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো টার্মিনাল ভিড়পূর্ণ। অনলাইনে টিকিট না কেটে কাউন্টারে আসা যাত্রীদেরকে বিশেষ করে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন, কেউ আবার শেষ মুহূর্তে টিকিট কেটে বাসে উঠছেন।
মো. অন্তর, যিনি গাবতলী থেকে রাজবাড়ী যাচ্ছিলেন, বলেন, “রেগুলার ভাড়া ৩৯০ টাকা, কিন্তু আজ আমাকে ৭০০ টাকা দিতে হয়েছে। শেষ টিকিটটি পেয়ে তাই আর কোনো তর্ক করতে পারিনি।”
পাংশাগামী মো. কাউছারও একই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন, “সাধারণ সময়ে ভাড়া ৪০০ টাকা, কিন্তু আজ ৭০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ বাসে একই অবস্থা।”
মাগুরাগামী ইব্রাহিম বলেন, “অন্যান্য সময়ে ৫০০-৫৫০ টাকা ভাড়া, আজ ৭০০ টাকা। প্রতি ঈদেই এই পরিস্থিতি, আর কিছু করার নেই।”
নিচের টেবিলে কিছু জনপ্রিয় রুটের রেগুলার ও ঈদকালীন ভাড়ার তুলনা দেখানো হলোঃ
| রুট | রেগুলার ভাড়া (টাকা) | ঈদ ভাড়া (টাকা) | বৃদ্ধি (টাকা) |
|---|---|---|---|
| গাবতলী–রাজবাড়ী | ৩৯০ | ৭০০ | ৩১০ |
| গাবতলী–পাংশা | ৪০০ | ৭০০ | ৩০০ |
| গাবতলী–মাগুরা | ৫৫০ | ৭০০ | ১৫০ |
সৌহার্দ্য পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার ইমরান বলেন, “সাধারণ সময়ে আমরা সরকারি ভাড়ার তুলনায় ১০০-২০০ টাকা কম রাখি। যাত্রীরা সেই ভাড়ার সঙ্গে অভ্যস্ত। ঈদে সরকারি চার্ট অনুযায়ী ভাড়া রাখা হয়, তাই যাত্রীদের কাছে বাড়তি মনে হয়।”
সাকুরা পরিবহনের ম্যানেজার মো. আল আমিনও বলেন, “সরকারি ভাড়া অনুসারে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য সময় কম ভাড়া রাখার কারণে যাত্রীদের ধারণা ভুল হয়ে যায় যে বাড়তি নেওয়া হচ্ছে।”
বিআরটির ভিজিল্যান্স টিমের সহকারী পরিচালক মইনুল হাসান জানান, “এ পর্যন্ত সরাসরি বাড়তি ভাড়া সংক্রান্ত অভিযোগ পাইনি। প্রতিটি কাউন্টারে সরকারি ভাড়া চার্ট প্রদর্শিত রয়েছে। টার্মিনালের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ এলে মোবাইল কোর্ট ব্যবস্থা নেবে।”
যাত্রীরা বাড়তি খরচের বোঝা নিয়ে ঈদযাত্রা করছেন। সরকারি নির্দেশনা ও তদারকির কারণে আশা করা যাচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং যাত্রীরা নিরাপদ ও স্বাভাবিক ভাড়ায় ঘরে ফেরার সুযোগ পাবেন।