খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং তদারকিতে একটি নতুন যুগের সূচনা করছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শীঘ্রই প্রথাগত তদারকি পদ্ধতি থেকে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (Risk-Based Supervision – RBS) পদ্ধতিতে পূর্ণরূপে পরিবর্তন আনছে। এই নতুন পদ্ধতিতে প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তদারকির মাত্রা তাদের ঝুঁকি প্রোফাইল অনুযায়ী নির্ধারিত হবে, যা আগে থাকা সাধারণ, সমানভাবে প্রয়োগ করা তদারকির তুলনায় অনেক বেশি লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর হবে।
প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় শোকপ্রতিমার কারণে এটি এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়। নতুন ব্যবস্থা এখন রবিবার থেকে কার্যকর হবে।
এই সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি বিভাগের কাঠামো সম্প্রসারণ করেছে। মোট বিভাগের সংখ্যা ১৩ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৭টি হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সাধারণ ব্যাংক তদারকি বিভাগ এবং ৫টি বিশেষায়িত বিভাগ উদীয়মান ঝুঁকি নিরীক্ষণ করবে। বিশেষায়িত বিভাগগুলো হলো: প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণ, নীতি নির্ধারণ, পেমেন্ট সিস্টেম তদারকি, এবং অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদ অর্থায়ন প্রতিরোধ (AML/CFT)। AML/CFT ইউনিট বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) মডেলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কাজ করবে।
ব্যাংকিং কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন কাঠামোতে ঝুঁকির গতিশীল মূল্যায়ন সম্ভব হবে। যেখানে পূর্ববর্তী তদারকি মূলত আইন ও বিধি অনুসরণে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে RBS মডেল ব্যবসার মডেল, পরিচালন কাঠামো এবং ভবিষ্যত ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা মূল্যায়ন করবে। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা দ্রুত শনাক্ত ও সংশোধন করা সম্ভব হবে, যা সামষ্টিক সংকটের সম্ভাবনা কমাবে।
নতুন তদারকি কাঠামো নিম্নরূপ:
| বিভাগ | তদারকির ফোকাস | ইউনিট সংখ্যা |
|---|---|---|
| ব্যাংক তদারকি | সাধারণ ব্যাংক নজরদারি | 12 |
| প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং | প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা | 1 |
| তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণ | তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ | 1 |
| নীতি নির্ধারণ | নিয়ম ও নীতি উন্নয়ন | 1 |
| পেমেন্ট সিস্টেম তদারকি | লেনদেন ও পেমেন্ট নেটওয়ার্ক | 1 |
| AML/CFT | আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ | 1 |
RBS কাঠামোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো আর্থিক অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধ, আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক খাতের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৮ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক আর্থিক রিপোর্টিং মানদণ্ড IFRS 9 কার্যকর করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে, যা দেশের ব্যাংকগুলোকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।
বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন যে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যাংকিং খাতে শাসন ও জবাবদিহিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। ঝুঁকি যেখানে সবচেয়ে বেশি, সেখানে সম্পদ ও মনোযোগ বরাদ্দের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও সংকট প্রতিরোধী ব্যাংকিং সিস্টেম গড়ে তুলতে পারবে।