খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিচয় দিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। অভিযানে লুট হওয়া একটি পণ্যবাহী ট্রাক, ৫৫ ড্রাম পাম ওয়েল, একটি সাদা রঙের টিআরএক্স মাইক্রোবাস, একটি ওয়াকিটকি সেট এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জিম্মি করা ট্রাকচালককেও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে সেকান্দার (৪০) এবং আড়াইহাজার উপজেলার গাজীপুরা এলাকার মৃত গেনেন্দ্র চন্দ্র শীলের ছেলে রন চন্দ্র শীল (৩০)। পুলিশের ধারণা, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারাব এলাকার শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ৬০ ড্রাম ‘ফ্যামিলি ফর্টিফায়েড’ পাম ওয়েল নিয়ে একটি ট্রাক ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ট্রাকটি মুড়াপাড়ার বানিয়াদী এলাকায় পৌঁছালে একটি সাদা টিআরএক্স মাইক্রোবাস সেটির গতিরোধ করে। মাইক্রোবাসে থাকা ৭-৮ জন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের কথা বলে ট্রাকের চাবি নিয়ে নেয়।
এরপর তারা ট্রাকচালক বাবুল মিয়া (৩৬)-কে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেয় এবং তার কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে ট্রাকটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বানিয়াদী এলাকায় সন্দেহভাজন মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়। এ সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। অভিযানে ট্রাকসহ প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৫৫ ড্রাম পাম ওয়েল উদ্ধার করা হয়। বাকি পাঁচ ড্রাম তেল আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
নিচে উদ্ধারকৃত মালামালের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| বিষয় | পরিমাণ/সংখ্যা | আনুমানিক মূল্য |
|---|---|---|
| পাম ওয়েল (ড্রাম) | ৫৫ | প্রায় ২০ লাখ টাকা |
| পণ্যবাহী ট্রাক | ১টি | — |
| টিআরএক্স মাইক্রোবাস | ১টি | — |
| দেশীয় অস্ত্র | ১টি | — |
| ওয়াকিটকি সেট | ১টি | — |
| উদ্ধার নগদ অর্থ | ২০,০০০ টাকা | — |
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবজেল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডিবি পরিচয়ে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা বেড়েছে। তাই পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে কেউ থামালে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, দ্রুত অভিযানের ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।