খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো–এর কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা ঘটে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর, বিক্ষুব্ধ একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে অফিসগুলোতে অগ্নিসংযোগ চালায়।
প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এরপর একই মিছিল ডেইলি স্টার ভবনে পৌঁছে ভবনটি ঘিরে ধরে। বিক্ষোভকারীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে টেবিল, চেয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বের করে রাস্তায় ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনায় সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে ছাদে উঠে আশ্রয় নেন।
ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাইমা ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন,
“আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। চারদিকে খুব বেশি ধোঁয়া। আমি ভেতরে আটকে আছি। তোমরা আমাকে মেরে ফেলছ।”
অন্যান্য সাংবাদিক রাকিবুল হক ও রাকসান্দা রহমান জানিয়েছেন, আগুন লাগানোর পর প্রায় ৩০–৩৫ জন কর্মী ছাদে উঠে আটকা পড়েছেন। ছাদের ওপর অবস্থানের কারণে তাদের দীর্ঘসময় নিরাপদ আশ্রয় নিতে হয়।
অত্যন্ত উত্তেজনার মধ্যে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসকে ঢুকতে বাধা দেয় বিক্ষুব্ধরা। তবে কিছুক্ষণ পর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভবনে প্রবেশ করতে দেয়। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী কাজ শুরু করে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও আটকা পড়াদের উদ্ধার করতে। টি-টিএল (টার্ন টার্বো লেডার) ব্যবহার করে সব সাংবাদিককে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়।
উদ্ধার অভিযান শেষে সাংবাদিকরা নিরাপদ স্থানে চলে যান। তবে ঘটনার ফলে অফিসে ব্যাপক ধ্বংস ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যেমন ‘ইনকিলাব ইনকিলাব’, ‘জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবীর’।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, “কয়েকশ লোক একত্রিত হয়ে হামলা চালিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি, তবে হামলাকারীদের সঠিক পরিচয় এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হামলার স্থান | ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়, কাওরান বাজার, ঢাকা |
| তারিখ | ১৮ ডিসেম্বর |
| সময় | রাত পৌনে ১২টা থেকে মধ্যরাত |
| হামলার ধরন | ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ |
| উৎস | শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর |
| আটকা পড়া | ৩০–৩৫ সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী |
| উদ্ধারকারী সংস্থা | ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী (টি-টিএল ব্যবহার) |
| স্লোগান | ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ, নারায়ে তাকবীর |
| বর্তমান অবস্থা | পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, সাংবাদিকদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে |