খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই অভিযানে চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া এক লাখ ৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার জারুলিয়াছড়ি সীমান্ত এলাকার একটি কাজু বাদাম বাগান থেকে এই বিশাল মাদকের চালানটি জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই ইয়াবার বাজারমূল্য কোটি টাকার ওপরে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিলফামারী ও কক্সবাজারের মতো বান্দরবানের এই সীমান্ত পথগুলোও ইদানীং মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে অপরাধীরা। নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৪৭/৩-এস এর কাছাকাছি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জারুলিয়াছড়ি নামক এলাকার একটি কাজু বাদাম বাগানে অবস্থান নেয়। বিজিবি জোয়ানরা সেখানে কৌশলগতভাবে ওত পেতে ছিলেন।
সন্ধ্যা নামার পরপরই মিয়ানমারের দিক থেকে কয়েকজন চোরাকারবারিকে ভারী বস্তা ও কার্টন নিয়ে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিজিবির টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে পাহাড়ি অঞ্চলের অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের সুযোগ নেয় চোরাকারবারিরা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সঙ্গে থাকা মালামাল ফেলে রেখেই মিয়ানমারের ভেতরের দিকে পালিয়ে যায়। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম এবং সীমান্তরেখার একদম কাছে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার পর বিজিবির সদস্যরা ওই বাদাম বাগানে ব্যাপক তল্লাশি চালান। এ সময় সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি কার্টন পাওয়া যায়। কার্টনগুলো খুলে গণনা করার পর মোট এক লাখ ৭৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই মাদকের চালানটি বর্তমানে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে জমা রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে সবার সামনে এগুলো ধ্বংস করা হবে। সীমান্তে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং চোরাচালান রোধে বিজিবির এই ধরনের কঠোর নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।