খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
নাটোর সদর উপজেলার অন্তর্গত গাওপাড়া ঢালান এলাকায় একটি বাড়ি থেকে এক দম্পতির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলের দিকে নিজ শয়নকক্ষ থেকে তাদের মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। মৃত ব্যক্তিরা হলেন স্বামী রাহুল রাহাত এবং তাঁর স্ত্রী লিজা খাতুন। ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, শুক্রবার অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে দুপুরের খাবার সম্পন্ন করেছিলেন এই দম্পতি। দুপুরের খাবার খাওয়া শেষ করে স্বামী রাহুল রাহাত ও স্ত্রী লিজা খাতুন বিশ্রাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজেদের শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন এবং ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন।
বিকেলের দিকে সময় অতিবাহিত হওয়ার পর চারটার দিকে পরিবারের সদস্যরা জরুরি প্রয়োজনে অথবা তাদের দীর্ঘসময় ঘরের ভেতর অবস্থান করতে দেখে ডাকাডাকি শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে দরজার বাইরে থেকে ক্রমাগত ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও ঘরের ভেতর থেকে কোনো ধরনের সাড়াশব্দ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দীর্ঘসময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মনে গভীর সন্দেহ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
ঘরের ভেতর থেকে কোনো জবাব না পাওয়ায় একপর্যায়ে পরিবারের উপস্থিত সদস্যরা মিলে শয়নকক্ষের দরজা জোরপূর্বক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার পর তারা একটি মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান যে, ঘরের ভেতরের চালের তিরের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের মরদেহ ঝুলছে।
এই আকস্মিক ও বেদনাদায়ক দৃশ্য দেখার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি এবং প্রতিবেশীদের জানানো হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত নাটোর সদর থানা পুলিশকে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করা হয়। খবর পাওয়ার পরপরই নাটোর সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গাওপাড়া ঢালান এলাকার ওই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
স্থানীয় এলাকা এবং পারিবারিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মৃত রাহুল রাহাত ও লিজা খাতুন নতুন বৈবাহিক জীবনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তারা একে অপরকে পছন্দ করতেন এবং দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পরিবারের অসম্মতি বা সম্মতি সাপেক্ষে প্রায় এক মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের বয়স মাত্র এক মাস হওয়ায় তাদের এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু স্থানীয় এলাকাবাসী এবং আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে চরম বিস্ময় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মাত্র এক মাসের মাথায় কেন এই তরুণ দম্পতিকে এমন চরম পথ বেছে নিতে হলো, তা নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে তাদের পারিবারিক জীবন ও সাম্প্রতিক আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে।
ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করার পর পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলোকে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে স্থানান্তর করে। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান ঘটনার সার্বিক পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে যৌথ আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আত্মহত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মানসিক ক্ষোভ কিংবা অন্য কোনো রহস্যময় কারণ ও তৃতীয় পক্ষের উসকানি রয়েছে কিনা, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
থানা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে সিআইডি ও ক্রাইম সিনের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বা রিপোর্ট হাতে পেলেই কেবল তাদের মৃত্যুর প্রকৃত ও সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।