মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

কলাম

পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে প্রত্যাশা

মনজুর রশীদ বিদ্যুৎ

প্রকাশ: শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে প্রত্যাশা
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত দৈনিকে প্রকাশিত ‘পুলিশ কমিশন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হওয়া নিয়ে শঙ্কা’ শীর্ষক লেখাটি পাঠ করার পর দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এ সংক্রান্ত বিষয়ের উপর আরও কিছু কথা লেখার তাগিদ অনুভব করছি।

আমাদের পুলিশ বাহিনী পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুলিশ বাহিনীর মতো আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে অন্য দেশসমূহ থেকে একটি বড় পার্থক্য হলো আমাদের মতো সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, মত ও দর্শনে বহুধা বিভক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র, অন্তকলহ, দ্বন্দ্ব-সংঘাতসমূহ অন্য দেশগুলোতে এতটা প্রবল নয়। তার ওপর রাজনৈতিকভাবে কর্তৃত্ববাদি ও সরকার নিয়ন্ত্রিত বাহিনী হওয়ায় তাদের জন্য অনেক সময় মূল্যবোধ, নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন হয়ে কাজ করা দুরূহ হয়ে ওঠে। যার সর্বশেষ ভয়ংকর উদাহরণ আমরা বিগত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে দেখেছি।

এ কথা ঠিক, অনেক নেতিবাচক সমালোচনা থাকলেও আমাদের পুলিশ বাহিনীর রয়েছে  সাহসিকতার নানা বীরত্বগাঁথা। মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পুলিশ বাহিনীর অকুতোভয় সাহসিকতার কথা আমরা বিস্মিত নই। স্বাধীনতা পরবর্তী কালেও বিভিন্ন শাসনামলে  বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ কিছু দিক জনগণের মাঝে দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছে। শুধু আইন পালন আর অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনই নয়, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতেও আমাদের সেনাবাহিনীর সাথে সাথে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়ে এসেছে। নানা অনিয়ম ও ব্যাপক দুনীর্তির অভিযোগের পরও, এই বাহিনী তার পেশাদারিত্ব আর কর্মতৎপরতা দিয়ে জনগণের কাছে অন্যতম একটি প্রধান আস্থার জায়গা হিসেবেও বিবেচিত হয়ে এসেছে। দেশে পুলিশ না থাকলে এবং থাকলেও তাদের নৈতিক মনোবল দুর্বল করে দেয়া হলে তার ফলাফল কি হয়, এরইমধ্যে আমরা সেই অভিজ্ঞতাও উপলব্ধি করছি!

কিন্তু এতকিছুর পরও পুলিশ বাহিনী সর্ম্পকে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণা অনেক আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নানা জরিপে এসব নেতিবাচক চিত্র ফুটে উঠতে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে। সরকার ও সরকারি দলকে সন্তুষ্ট করতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী বা ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি নিষ্ঠুর ও বর্বর আচরণ প্রদর্শন, প্রকৃত অপরাধীকে সহযোগিতা করে নিরীহ বা নির্দোষ মানুষদেরকে শাস্তি প্রদান বা হয়রানি করা, আবার কখনো কখনো নৈতিক স্খলনশীল আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ পুলিশ বাহিনীর গৌরবকে অনেক সময় মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

প্রকৃত অপরাধী ছাড়াও নিরাপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা বিভিন্ন মামলা মোকাদ্দমার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা; অস্ত্র, মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা-ফেনসিডিলসহ নিষিদ্ধ মাদকসমূহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাগে বা ঘরে ঢুকিয়ে মানুষকে ‘ফাঁসানো’ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন প্রবর্তনের নামে মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষমতাকে নির্মমভাবে ব্যবহার করে জনগণকে নিপিড়ন করা পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক পুরানো অভিযোগ। প্রকৃত মৌলবাদি ও জঙ্গী গোষ্ঠির বাইরে সাধারণ ধর্মানুরাগী মানুষকেও কখনো কখনো কোন মৌলবাদি বা জঙ্গী দলের অনুসারির তকমা লাগিয়ে গ্রেপ্তার করার অভিযোগও আছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশি পরিচয়কে ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে নানাবিধ সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি আরও যে সকল অভিযোগ পত্রিকার পাতায় হরহামেশা দেখা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পুলিশকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা। যার মারাত্মক প্রতিফলন আমরা দেখেছি বিএনপি’র সর্বশেষ শাসনামলে। সে সময় বিএনপি সরকার পুলিশ বাহিনীকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে বিরোধী মত ও পথের মানুষকে একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিল।

বিএনপি’র সৃষ্ট সেই পুলিশি নির্যাতনের সংস্কৃতি বহুগুণে বেড়ে যায় বিগত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে। বিএনপি’র তৈরি করা নানা আইন-কানুন ও অপতৎপরতা এই ফ্যাসিবাদি সরকার যেন বিএনপির উপরই অত্যন্ত ভয়ংকরভাবে প্রয়োগ করা শুরু করে। যেখানে গুম, খুন, হত্যা আর মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী মত ও পথের মানুষকে দানবীয় কায়দায় নিয়ন্ত্রণের পৈশাচিকতার কথা বিশ্বজুড়ে আজ চরমভাবে নিন্দিত। এই দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সরকার প্রধান, মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, চেয়ারম্যান সহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের খুশি করার জন্য সেসময় যেসকল পুলিশ কর্মকর্তা নির্যাতনের হোলি খেলায় মেতে উঠেছিলো, যাদের হাতে হাজার হাজার ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনতার জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে চিরতরে, আজ তাদের বড় অংশই পলাতক হয়ে ফেরারি জীবনযাপন করছে দেশে ও দেশের বাইরে ! আর এদের এই কুকীর্তি পুরো পুলিশ বাহিনীকে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে সবচেয়ে ধিকৃত বাহিনীর মর্যাদা এনে দিয়েছে! যেখান থেকে পুলিশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করা অত্যন্ত কষ্টকর একটি বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিগত বছরের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর পুলিশের নির্বিচার গুলি ও বলপ্রয়োগ করে অসংখ্য ছাত্রকে হত্যা কিংবা চিরতরে পঙ্গু করে দেয়ার পর থেকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে স্বাধীন কর্তৃপক্ষের অধীনে পুলিশ বাহিনী পরিচালনার দাবি উঠতে শুরু করে। জুলাই আন্দোলন পরবর্তীকালে সকলেরই  চাওয়া ছিল একটি স্বাধীন কমিশন। এই কমিশনই যেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন পদগুলোর নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব পায়। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিরসনেও যেন কাজ করে এ কমিশন – এমন প্রত্যাশার কথা পুলিশ বাহিনীর কাছে থেকেও উঠে আসে।

এসবের প্রেক্ষতে পুলিশ কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য এবং জুলাই সনদে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বশাসিত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ড. মুহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপদেষ্টাদের একটি কমিটি কমিশনের কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যে একটি খসড়াও তৈরি করেছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, এই কমিশন পুলিশি কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। তবে তারা পুলিশ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ হবে না।

প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশনের খসড়ায় আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে ৯ সদস্যের স্বশাসিত পুলিশ কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। পুলিশের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি এই কমিশনের অধীনে হবে না। আগের মতোই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। কমিশন শুধু এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করবে। এ ছাড়া কমিশনকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিবর্তে সুপারিশের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। আবার সুপারিশ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা না থাকায় এর কার্যকারিতা নিয়েও সন্দিহান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সবচেয়ে দৃষ্টিকটু বিষয় হলো – এই কমিশনের সদস্য বাছাই কমিটির সভাপতি নাকি হবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই। ফলে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীর নেতৃত্বে হওয়া বাছাই কমিটি কতটা নিরপেক্ষভাবে কমিশনের সদস্য বাছাই করতে পারবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাওয়ার বাইরে গিয়ে বাছাই কমিটির অন্য সদস্যদের মতামত কতটা গুরুত্ব পাবে, তবে কি ‘যে লাউ সেই কদু’র মতো বিষয়টি দাঁড়াচ্ছে কিনা আজ সে প্রশ্নও উঠছে!

উল্লেখিত ঐ লেখা থেকে আমরা জানতে পারি যে, কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামো, কার্যক্রম ও এখতিয়ার নিয়ে পুলিশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই কমিশন কতটা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুলিশের সাবেক ও বর্তমান অনেক কর্মকর্তা বলছেন, নিয়োগ-পদোন্নতি ও পদায়ন ঘিরে অবৈধ সুবিধা পেতে সরকার ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অবৈধ আদেশ পালন করতে বাধ্য হন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। এমন অবৈধ আদেশ পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে বিভিন্ন শাসনানলে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিয়ে কমিশন করলে তাতে কার্যত কোনো লাভ হবে না বলে তাদের অভিমত।

দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো যে কোন মূল্যে বাংলাদেশের পুলিশকে আমরা আর আগের অবস্থায় দেখতে চাইনা। আমাদের সকলের কষ্টার্জিত উপার্জন থেকে প্রদেয় করের টাকায় পরিচালিত এই বাহিনী দেশের সকল মানুষের প্রতি সম মনোভাব ও আচরণ প্রদর্শন করবে, যে কারো বিপদে বন্ধুর মতো এগিয়ে এসে তাদের পাশে দাঁড়াবে এবং কোন অবস্থাতেই কোন রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন বা তাবেদারের ভমিকায় যেন আর অবতীর্ণ না হয়, পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আমরা সাধারণ মানুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দেশের বেশিরভাগ পুলিশের সততার বাস্তব নিদর্শনমূলক গল্পগুলো হারিয়ে যায় এই বাহিনীরই একটা অতি ক্ষুদ্র অংশের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য। ঘুষ-দুর্নীতি ছাড়াও ছোট-বড় বিভিন্ন পদবিধারী সেই অংশের সক্রিয়ভাবে অপরাধ সংঘটিত করার জন্য কলঙ্কিত হতে হয় সামগ্রিক একটা দায়িত্বশীল বাহিনীকে। দেশ মেরামতের এই সময়ে কোনভাবেই যেন খারাপ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, পুলিশ বাহিনীর পুনর্গঠনে দেশের নীতিনির্ধারকদের সেই দিকগুলোকে অবশ্যই সবার আগে বিবেচনায় নিতে হবে।

আমাদের সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের। তা যখন যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেনো। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দেশে শান্তি, সুশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার ও নিরাপরাধ জণগণকে সহায়তা করা। আমাদের পুলিশ বাহিনীর যে সকল নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার কামনার পাশাপাশি এগুলোকে আমরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দেখতে চাই।

আমাদের প্রবাহমান নষ্ট রাজনীতির মধ্যে নিজেদেরকে সংযুক্ত না করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মান উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে কীভাবে আরও আন্তরিক, মানবিক ও সচেতন বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা যায় সাধারণ জনগণ সেটাই প্রত্যাশা করে। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে যে পুলিশ বাহিনীর অকুতোভয় প্রতিরোধের কথা ইতিহাস হয়ে গাঁথা আছে, যে পুলিশ বাহিনী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সঙ্কটকালীন সময়ে সাহসী অবদান রেখে যাচ্ছে, তাদের ভাবমূর্তি আরও উন্নত হবে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবসময়ই সন্তোষজনক অবস্থায় থাকবে, নিরীহ ও নিরাপরাধ মানুষের বিপদের সময়ে বন্ধুর মতো তারা পাশে দাঁড়াবে – দেশের ঐতিহ্যবাহি একটি বাহিনীর কাছে দেশের সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে এটা নিঃসন্দেহে খুব বড় বেশি চাওয়া হওয়ার কথা নয়।

লেখক, গবেষক ও পলিসি এডভোকেট