খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি বর্তমানে জেমিনি নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থান করছে এবং আগামী দুই দিনেই এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের অবস্থানে পৌঁছাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি মহাকাশপ্রেমীদের জন্য বিরল একটি পর্যবেক্ষণের সুযোগ, কারণ এই সময়ে বৃহস্পতিকে রাতের আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল ও স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি দিবাগত রাত ২টার দিকে বৃহস্পতিকে খালি চোখে সহজেই দেখা যাবে। এ সময় গ্রহটি দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্র কাস্টর ও পোলক্স এর সঙ্গে একটি অসম ত্রিভুজের আকার গঠন করবে। পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব তখন প্রায় ৬৩ কোটি ৩০ লাখ কিলোমিটার হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, সূর্যের আলো বৃহস্পতিতে পৌঁছতে প্রায় ৪৩ মিনিট সময় নেবে এবং বৃহস্পতির থেকে প্রতিফলিত আলো পৃথিবীতে পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় ৩৫ মিনিট। অর্থাৎ, রাতের আকাশে দেখা উজ্জ্বল গ্রহটির আলো আসলে প্রায় ঘণ্টা-ঘণ্টার ব্যবধানের ‘প্রতিফলিত সূর্যালোক’।
বৃহস্পতিকে সাধারণ মানের বাইনোকুলার দিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে এর চারটি প্রধান চাঁদ—আইও, ইউরোপা, গ্যানিমেড ও ক্যালিস্টো—ও দেখা যাবে। এছাড়াও, ছোট টেলিস্কোপ বা ১০ গুণ জুমের বাইনোকুলার ব্যবহার করলে গ্রহটির বিখ্যাত বর্ণিল মেঘের স্তরও পর্যবেক্ষণ সম্ভব।
বৃহস্পতি স্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল প্রদর্শিত হয়, যদিও এটি শুক্র গ্রহের তুলনায় অনেক দূরে অবস্থান করে। এর কারণ হল গ্রহটির ঘন মেঘের স্তর প্রচুর সূর্যালোক প্রতিফলিত করতে সক্ষম। পৃথিবীর দুই গোলার্ধ থেকেই বৃহস্পতিকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| পর্যবেক্ষণের তারিখ ও সময় | ১০ জানুয়ারি, রাত ২টা (বাংলাদেশ সময়) |
| অবস্থান নক্ষত্রমণ্ডল | জেমিনি (Gemini) |
| নক্ষত্রের সঙ্গে অবস্থান | কাস্টর এবং পোলক্সের সঙ্গে অসম ত্রিভুজ |
| পৃথিবী থেকে দূরত্ব | ৬৩ কোটি ৩০ লাখ কিমি |
| সূর্য থেকে আলো পৌঁছতে সময় | প্রায় ৪৩ মিনিট |
| বৃহস্পতির আলো পৃথিবীতে পৌঁছতে সময় | প্রায় ৩৫ মিনিট |
| দৃশ্যমান প্রধান চাঁদ | আইও, ইউরোপা, গ্যানিমেড, ক্যালিস্টো |
| পর্যবেক্ষণের সরঞ্জাম | খালি চোখ, বাইনোকুলার, ছোট টেলিস্কোপ |
| বিশেষ বৈশিষ্ট্য | রঙিন মেঘের স্তর, উজ্জ্বল দৃশ্যমানতা |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিরল সময়ের পর্যবেক্ষণ মহাকাশপ্রেমীদের জন্য অসাধারণ অভিজ্ঞতা হবে, কারণ বৃহস্পতির উজ্জ্বলতা, চারটি প্রধান চাঁদ এবং বর্ণিল মেঘের স্তর একসাথে দেখা যায় খুব কম সময়।