মঙ্গলবার, ২৩ই জুন ২০২৬, ৯শে আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ই জুন ২০২৬, ৯শে আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত

কলাম

বগুড়ার বঞ্চনার আঠারো বছর: উন্নয়নের নামে বৈষম্যের ইতিহাস ও ন্যায্য হিস্যার প্রশ্ন

প্রফেসর ড. মোহাঃ হাছানাত আলী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বগুড়ার বঞ্চনার আঠারো বছর: উন্নয়নের নামে বৈষম্যের ইতিহাস ও ন্যায্য হিস্যার প্রশ্ন

বাংলাদেশের মানচিত্রে বগুড়া কেবল একটি জেলা নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই জনপদ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে অসামান্য অবদান রেখে এসেছে। অথচ আজ যখন দেশের উন্নয়ন, সমতা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়, তখন বগুড়ার মানুষ এক গভীর প্রশ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে—এই রাষ্ট্রের উন্নয়নের যাত্রায় বগুড়ার প্রাপ্য কোথায়?
সম্প্রতি বগুড়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা, সমালোচনা, সংসদে বিতর্ক এবং তির্যক মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এমনভাবে কথা বলছেন যেন বগুড়া বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী অঞ্চল। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই তাই? যারা বগুড়ার নাম উচ্চারণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন, তারা কি কখনো গত আঠারো বছরের বঞ্চনার ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকিয়েছেন?
বগুড়ার মানুষ আজ ক্ষোভ থেকে নয়, বরং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা থেকে জানতে চায়—আমাদের অপরাধ কী ছিল? আমরা কেন বারবার উন্নয়নের হিস্যা থেকে বঞ্চিত হলাম?
একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার প্রতিটি অঞ্চল সমান গুরুত্ব পায়। কিন্তু গত প্রায় দুই দশকে বগুড়ার মানুষ অনুভব করেছে এক অদৃশ্য বৈষম্যের দেয়াল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, মেডিকেল কলেজ হয়েছে, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠেছে, নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। অথচ উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়া একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি অঞ্চলের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার কেন্দ্র। একটি বিশ্ববিদ্যালয় হাজারো তরুণের স্বপ্ন, গবেষণার সুযোগ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক পরিবর্তনের সূতিকাগার। অথচ বগুড়ার লাখো শিক্ষার্থীকে বছরের পর বছর উচ্চশিক্ষার জন্য দূরদূরান্তে ছুটতে হয়েছে। তাদের অনেকেই আর্থিক সংকটে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ত্যাগ করেছে। প্রশ্ন হলো, এই বঞ্চনার দায় কে নেবে? একইভাবে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন প্রকল্পের কথাও বারবার উঠেছে। উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নয়ন পরিকল্পনার তালিকায় প্রকল্পের নাম এসেছে, আলোচনা হয়েছে, আশ্বাস দেওয়া হয়েছে; কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। ফলে শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনা অপূর্ণই থেকে গেছে।
দেশের সবচেয়ে বড় পৌরসভা হিসেবে বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম, নগর বিস্তার এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে বহু আগেই এটি সিটি কর্পোরেশনের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। কিন্তু সেই দাবিও বছরের পর বছর উপেক্ষিত হয়েছে। অন্য অনেক শহর সিটি কর্পোরেশনের মর্যাদা পেয়েছে, অথচ বগুড়া অপেক্ষা করেছে। কেন? এই প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।
বগুড়া বাংলাদেশের কৃষির প্রাণকেন্দ্রগুলোর একটি। এ অঞ্চলের উর্বর জমিতে উৎপাদিত হয় আলু, কলা, মরিচ, ধান, সবজি ও নানা ধরনের কৃষিপণ্য। দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বগুড়ার কৃষকদের অবদান অপরিসীম। শুধু তাই নয়, কৃষি যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বগুড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবহৃত সেচযন্ত্র, কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশের বড় অংশ উৎপাদিত হয় এই অঞ্চলে। অর্থাৎ বগুড়া শুধু রাষ্ট্রের কাছ থেকে নেয়নি; বরং রাষ্ট্রকে দিয়েছে। দিয়েছে খাদ্য, দিয়েছে অর্থনীতি, দিয়েছে রাজস্ব, দিয়েছে শ্রম, দিয়েছে মেধা। কিন্তু বিনিময়ে কী পেয়েছে? যে কৃষক দেশের খাদ্য উৎপাদনের ভার বহন করেন, তিনি ভাঙা রাস্তা দিয়ে পণ্য পরিবহন করেন। যে ব্যবসায়ী দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন, তিনি অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করেন। যে শিক্ষার্থী মেধা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়, সে উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না। যে তরুণ চাকরির যোগ্যতা অর্জন করে, সে মনে করে তার জেলার পরিচয় তার বিরুদ্ধে এক অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন অনুভূতি যদি একটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে জন্ম নেয়, তাহলে সেটি শুধু একটি জেলার সমস্যা নয়; সেটি জাতীয় সংহতির জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

বগুড়ার মানুষ বছরের পর বছর কর দিয়েছে। ভ্যাট দিয়েছে। আয়কর দিয়েছে। কৃষক তার উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখেছে। ব্যবসায়ী রাজস্ব দিয়েছে। প্রবাসীরা বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছে। শিক্ষিত তরুণেরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—এই অবদানের প্রতিদান কোথায়?
উন্নয়নের মূলনীতি হলো ভারসাম্য। কোনো অঞ্চলকে রাজনৈতিক বিবেচনায় বঞ্চিত করা উন্নয়ন নয়; সেটি বৈষম্য। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সব অঞ্চলের মানুষের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা। যদি কোনো অঞ্চল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হয়, তাহলে সেটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বগুড়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি অভিযোগ করে আসছে—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব তারেক রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে এই অঞ্চল।
এই অভিযোগের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হতে পারে, বিতর্ক হতে পারে, মতভেদ থাকতে পারে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—কোনো অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন অধিকার কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে না। রাষ্ট্রের উন্নয়ন নীতি দলীয় আনুগত্যের ওপর নির্ভর করতে পারে না। বগুড়া যদি উন্নয়ন বঞ্চিত হয়ে থাকে, তাহলে সেই বঞ্চনা দূর করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। আজ যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়, তখন অনেকেই সমতার কথা বলেন। আমরাও সমতার পক্ষেই। আমরা চাই বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা সমান সুযোগ পাক। আমরা চাই কোনো অঞ্চল পিছিয়ে না থাকুক। আমরা চাই রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ—সব অঞ্চল সমানভাবে এগিয়ে যাক। কিন্তু সমতার আলোচনা শুরু হওয়ার আগে বৈষম্যের ইতিহাস স্বীকার করতে হবে। যে মানুষ দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছে, তার ক্ষতকে অস্বীকার করে সমতার ভাষণ দেওয়া যায় না। আগে তাকে তার ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হয়। আগে তার ক্ষোভের কারণ দূর করতে হয়। আগে তার প্রাপ্য নিশ্চিত করতে হয়।
বগুড়ার মানুষ বিশেষ সুবিধা চায় না। তারা অন্যের অংশ কেড়ে নিতে চায় না। তারা শুধু তাদের ন্যায্য হিস্যা চায়। তারা চায় একটি শক্তিশালী বিশ্ববিদ্যালয়। তারা চায় বগুড়ায় বিমানবন্দর চালু হোক।
তারা চায় আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
তারা চায় শিল্পায়নের সুযোগ। তারা চায় অর্থনৈতিক অঞ্চল।
তারা চায় কর্মসংস্থান।
তারা চায় সড়ক ও অবকাঠামোর উন্নয়ন।
তারা চায় প্রশাসনিক মর্যাদা। তারা চায় সম্মান। সবচেয়ে বড় কথা, তারা চায় রাষ্ট্র তাদের সমান চোখে দেখুক।

বগুড়ার ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস। এই অঞ্চলের মানুষ কখনো মাথা নত করে বাঁচতে শেখেনি। কৃষক মাঠে ঘাম ঝরিয়েছে, শ্রমিক কারখানায় শ্রম দিয়েছে, শিক্ষার্থী মেধা দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করেছে, ব্যবসায়ী অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। তাদের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
আজ সময় এসেছে বগুড়ার বঞ্চনার ইতিহাসকে নতুন করে মূল্যায়ন করার।
সময়ের দাবি হলো প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, পুনর্মিলনের রাজনীতি। বৈষম্যের ধারাবাহিকতা নয়, ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন। কেন্দ্রভিত্তিক উন্নয়ন নয়, অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন।
রাষ্ট্র যদি সত্যিই একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায়, তাহলে বগুড়ার মতো অবহেলিত অঞ্চলের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। কারণ উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যায়। আজ বগুড়ার মানুষ কোনো করুণা চায় না। তারা কোনো বিশেষ অনুগ্রহও চায় না। তারা শুধু জানতে চায়—আঠারো বছর ধরে যে বঞ্চনা, যে অবহেলা, যে উন্নয়ন বৈষম্য তারা অনুভব করেছে, তার জবাব কে দেবে? যে তরুণ চাকরি হারিয়েছে, তার স্বপ্ন কে ফিরিয়ে দেবে? যে শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাবে পিছিয়ে পড়েছে, তার ক্ষতি কে পূরণ করবে?
যে কৃষক ভাঙা সড়কে পণ্য পরিবহন করেছে, তার সময় ও শ্রমের মূল্য কে দেবে? যে জনপদ বছরের পর বছর উন্নয়নের অপেক্ষায় থেকেছে, তার অপেক্ষার অবসান কবে হবে? এই প্রশ্নগুলো কেবল বগুড়ার নয়; এগুলো ন্যায়বিচারের প্রশ্ন, সমঅধিকারের প্রশ্ন, রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। বগুড়া বাংলাদেশের অংশ। বগুড়ার মানুষও বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের স্বপ্ন, অধিকার ও মর্যাদাও সমান মূল্যবান। তাই আজ সময় এসেছে একটি নতুন সামাজিক চুক্তির—যেখানে কোনো অঞ্চল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বঞ্চিত হবে না, কোনো নাগরিক তার জন্মস্থানের কারণে বৈষম্যের শিকার হবে না, এবং উন্নয়নের সুফল সমানভাবে পৌঁছে যাবে দেশের প্রতিটি জনপদে।
বগুড়া অপেক্ষা করছে। ক্ষোভ নিয়ে নয়, প্রত্যাশা নিয়ে। বিভাজন নিয়ে নয়, ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে। কারণ এই জনপদ বিশ্বাস করে—একদিন রাষ্ট্র তার অবদানকে স্বীকৃতি দেবে, তার বঞ্চনার ইতিহাসের হিসাব নেবে, এবং উন্নয়নের মূলধারায় তার প্রাপ্য স্থান নিশ্চিত করবে।
সেদিনই সত্যিকারের অর্থে বলা যাবে—বাংলাদেশের উন্নয়ন সবার জন্য, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সবার অংশীদারিত্বে।

লেখকঃ উপাচার্য, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়