খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈরিতা ও নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল কাটিয়ে ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল বিক্রির এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত ২০০ কোটি ডলারের একটি ঐতিহাসিক চুক্তির প্রথম পর্যায় হিসেবে প্রায় ৫০ কোটি ডলার সমমূল্যের তেল বিক্রি করা হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই লেনদেন কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তিই নয়, বরং দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের পরিবর্তিত সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রমতে, প্রাথমিক এই বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি ভেনেজুয়েলা সরকারের হাতে যাচ্ছে না। বরং এই বিশাল অংকের অর্থ বর্তমানে মার্কিন সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। শুক্রবার একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই অর্থ সংরক্ষণের আইনি বৈধতা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। শিল্প বিষয়ক গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই অর্থের মূল অ্যাকাউন্টটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে অবস্থিত। কাতারকে এখানে একটি ‘নিরপেক্ষ ভূমি’ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে মার্কিন অনুমোদনের ভিত্তিতে অর্থ স্থানান্তরের সময় কোনো প্রকার জব্দ বা আইনি ঝুঁকির সৃষ্টি না হয়।
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির এই প্রক্রিয়াটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে আরও কয়েক দফায় তেল বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। নিচে এই চুক্তির প্রধান দিকগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| মোট চুক্তির মূল্য | ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। |
| প্রথম দফার বিক্রয়মূল্য | ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। |
| অর্থ সংরক্ষণের স্থান | কাতার (নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে)। |
| নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও ব্যাংক। |
| ভবিষ্যৎ লক্ষ্য | পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট ১৫০ কোটি ডলারের তেল খালাস। |
| কৌশলগত উদ্দেশ্য | জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন। |
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই বিক্রয় থেকে অর্জিত অর্থ মার্কিন সরকারের কঠোর পর্যবেক্ষণে থাকবে এবং তা আন্তর্জাতিক আর্থিক নিরাপত্তা ও তেলের ট্রানজেকশন সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই ব্যবহৃত হবে। এই চুক্তির ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার জন্য এটি একটি বড় সুযোগ, কারণ এর মাধ্যমে দেশটি দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে আংশিক মুক্তি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় এই অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলা উভয় পক্ষই এখন একে অপরের ওপর আস্থা স্থাপনের চেষ্টা করছে। যদিও এই অর্থের ব্যবহার নিয়ে এখনও অনেক শর্ত ও বিধিনিষেধ রয়েছে, তবুও এই ৫০ কোটি ডলারের লেনদেন মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।