খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকার বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড ও গুলশান এলাকায় নির্মিত সরকারি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্টগুলো দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রীদের থাকার জন্য পরিকল্পিত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে এগুলোতে থাকা ব্যক্তিরা পরিবর্তিত হয়ে বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তারা বসবাস করতে শুরু করেছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার মন্ত্রিপাড়া এলাকায় কেবল মন্ত্রীদের আবাসন নিশ্চিত করতে ৭১টি বাংলো ও ফ্ল্যাটকে নির্দিষ্ট করার (এয়ারমার্ক) উদ্যোগ নিয়েছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ইতিমধ্যেই এই ৭১টি বাসা চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে পুরোনো ৪১টি বাসা ২০১৩ সালে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। নতুনভাবে ৩০টি বাড়ি যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে বেইলি রোডে ১৯টি, গুলশানে ৫টি, ধানমন্ডিতে ৫টি এবং মিন্টো রোডে ১টি বাসা রয়েছে।
আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনকার ব্যবস্থায় মন্ত্রিপাড়া এলাকায় অনেক বাসা খালি থাকায় বিচারপতি, উপদেষ্টা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা সেখানে অবস্থান করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে, নতুন মন্ত্রীদের বসবাসের জন্য ঠিকানা তৈরি করতে এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।
কমিটির আহ্বায়ক ও আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, “আমরা প্রতিবেদনে ৭১টি বাংলো ও ফ্ল্যাটকে মন্ত্রিপাড়া হিসেবে নির্দিষ্ট করার সুপারিশ করেছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে।”
নিচের টেবিলে এয়ারমার্ক করা বাসাগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো:
| এলাকা | পুরোনো বাসা | নতুন সংযোজন | মোট বাসা |
|---|---|---|---|
| বেইলি রোড | 11 | 19 | 30 |
| গুলশান | 0 | 5 | 5 |
| ধানমন্ডি | 0 | 5 | 5 |
| মিন্টো রোড | 30 | 1 | 1 |
| মোট | 41 | 30 | 71 |
বেইলি রোডে ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’ নামের তিনটি ভবন রয়েছে। প্রতিটি ভবনে ১০টি করে ফ্ল্যাট রয়েছে, যার আয়তন প্রায় ৫,৫০০ বর্গফুট। এসব ফ্ল্যাটে বর্তমানে বিচারপতি, উপদেষ্টা এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বসবাস করছেন।
এয়ারমার্কের ফলে ভবিষ্যতে মন্ত্রিপাড়া এলাকায় কেবল মন্ত্রীরাই বসবাস করবেন। বর্তমানে যাঁরা এখানে অবস্থান করছেন, তাঁদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ আবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং মন্ত্রিপাড়া এলাকার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও সহজ করবে।