মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর সতেরো বছর পেরিয়ে গেলেও তার সংগীত ও পরিবেশনা নতুন প্রজন্মের শ্রোতা-দর্শকের কাছে এখনো সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আজ থেকে সতেরো বছর আগে, মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে তিনি পৃথিবী ছেড়ে যান। তার প্রত্যাবর্তনের যে বড় মঞ্চ প্রস্তুত হচ্ছিল, তার মাত্র আঠারো দিন আগে এই শোকাবহ ঘটনা ঘটে। জীবনের শেষ সময়ের মহড়া দৃশ্যগুলো এখনো দেখলে মনে হয়, তিনি যেন পরিপূর্ণ উদ্যমে ছিলেন—সহকর্মীদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু সেই মঞ্চে আর কখনো ওঠা হয়নি।
এই বছর তার জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্রে তাকে আবার নতুনভাবে দেখার সুযোগ পান দর্শকরা। সেখানে তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরিবারেরই এক সদস্য। অনেক দর্শকই আগে থেকেই তাকে হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছিলেন, আবার অনেকেই প্রথমবারের মতো তার কাজের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। ফলস্বরূপ, তার পুরোনো গান ও পরিবেশনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবারও শীর্ষে উঠে আসে, যেন সময় থমকে দাঁড়িয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মে এখন তার কনসার্ট, সংগীতচিত্র এবং মহড়ার অসংখ্য ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে। যারা তাকে জীবিত অবস্থায় দেখেনি, তারাও এখন গভীর আগ্রহে সেই সব দৃশ্য অনুসন্ধান করছে। এক কিশোরীর উদাহরণও দেখা যায়, যে পড়াশোনার ফাঁকে বারবার তার নাচের ভিডিও দেখতে থাকে। বিশেষ করে ১৯৮৩ সালে তার বিখ্যাত মুনওয়াক নাচের মুহূর্তটি তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে, যা সে বারবার দেখে বিস্মিত হয়।
মঞ্চে তার উপস্থিতি ছিল অনন্য। সাদা মোজা, কালো জুতো, ঝকঝকে দস্তানা এবং টুপি—এই প্রতীকগুলোই তাকে আলাদা করে চিনিয়ে দিত। তিনি যখন মঞ্চে আসতেন, চারপাশের পরিবেশ মুহূর্তেই উত্তেজনায় ভরে উঠত। কখনো একদম স্থির দাঁড়িয়ে থেকে তিনি দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিতেন, আবার হঠাৎ নড়াচড়ায় পুরো হল ভেঙে পড়ত উল্লাসে। তার নাচ ও শরীরী ভঙ্গি যেন সংগীতেরই আরেকটি রূপ ছিল।
শৈশব থেকেই তিনি পারফরম্যান্সে যুক্ত ছিলেন। কঠোর অনুশীলন আর পারিবারিক চাপের মধ্যে বড় হয়ে ওঠা তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। পরবর্তীতে তিনি নিজের তৈরি এক বিশাল আবাসে শিশুদের জন্য বিনোদন ও আনন্দের ব্যবস্থা করেছিলেন, যেখানে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনেক শিশু আমন্ত্রণ পেত।
তবে তার জীবনের আলোচনায় বিতর্কও কম ছিল না। গণমাধ্যমে তাকে ঘিরে নানা ধরনের গল্প ও সমালোচনা দীর্ঘদিন ধরে ছড়িয়েছে, যা অনেক সময় তার ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা এগোয়।
তার মৃত্যুর পরও সেই সব বিতর্ক থেমে থাকেনি। কিন্তু নতুন প্রজন্ম এখন তাকে মূলত তার সংগীত, নাচ এবং মঞ্চের শক্তিশালী উপস্থিতির মাধ্যমেই আবিষ্কার করছে। যারা তাকে আগে কখনো দেখেনি, তারাও এখন তার পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে এক ভিডিও থেকে আরেক ভিডিওতে হারিয়ে যাচ্ছে। তার সুর ও ছন্দ আজও অনেকের কাছে একইভাবে জীবন্ত, সময়ের সীমা অতিক্রম করে।