খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে মাঘ ১৪৩২ | ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী বিপজ্জনক পরিমাণে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা, ককটেল এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। অভিযানটি গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে লেছড়াগঞ্জ বাজার সংলগ্ন দুর্গম এলাকায় পরিচালিত হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মানিকগঞ্জ সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওয়াসিম আকরাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওয়াসিম জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি টিম লেছড়াগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় একটি সেতুর নিচ থেকে পাকিস্তানে তৈরি একটি রিভলবার, পাঁচটি ককটেল, কিছু ধারালো অস্ত্র এবং একটি বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত বোমা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বোমা সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল দল দ্বারা নিরাপদভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অন্যান্য অস্ত্র ও সামগ্রী পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওয়াসিম বলেন, “দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও গণভোট নিশ্চিত করতে যৌথবাহিনী সর্বদা সক্রিয় এবং সতর্ক। আমাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা এবং সন্ত্রাস বা ভয়াল পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা।”
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন জানিয়েছেন, পুলিশ উদ্ধারকৃত রিভলবার, চাপাতি এবং পাঁচটি রিকশার চেইন গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতের কাছে জানানো হয়েছে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | উদ্ধারকৃত সামগ্রী | পরিমাণ/বিবরণ | উৎপত্তি/লক্ষণীয় তথ্য |
|---|---|---|---|
| ১ | রিভলবার | ১টি | পাকিস্তান নির্মিত |
| ২ | ককটেল | ৫টি | অগ্নিসংযোগযোগ্য |
| ৩ | ধারালো অস্ত্র | কিছু | চেয়ারে রাখা |
| ৪ | বৈদ্যুতিক বোমা | ১টি | সেনাবাহিনী ধ্বংস করেছে |
| ৫ | চাপাতি | ১টি | পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে |
| ৬ | রিকশার চেইন | ৫টি | উদ্ধারকৃত, পুলিশ হেফাজতে |
এই অভিযান মূলত ভোটকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। যৌথবাহিনী ও পুলিশের এই ধরনের কার্যক্রম স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ ভোট ও সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।