মালয়েশিয়া সফরকালে এক সাংস্কৃতিক আয়োজনকে ঘিরে ভিন্নধর্মী এক মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় জনপ্রিয় একটি বাংলা গান।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার এক শিল্পী বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী ইমরানের কণ্ঠে বহুল জনপ্রিয় গান ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ পরিবেশন করেন। বিদেশি মঞ্চে, তাও আবার রাষ্ট্রীয় প্রধানের সামনে একটি বাংলা গান স্থানীয় শিল্পীর কণ্ঠে শোনা—এই বিষয়টি উপস্থিত অতিথিদের পাশাপাশি অনলাইনেও বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে।
ঘটনাটির একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী কার্ডিওলজিস্ট মনোয়ারুল কাদির বিটু। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে মূল গানের শিল্পী ইমরানের। নিজের গান এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিসরে উপস্থাপিত হতে দেখে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
ইমরান বলেন, বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের। তার ভাষায়, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সামনে স্থানীয় এক শিল্পী তার গান পরিবেশন করছেন—এটি নিঃসন্দেহে তার সংগীতজীবনের জন্য একটি বড় স্বীকৃতির মতো অনুভূতি। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ায় কোনো সংগীতানুষ্ঠান হলে ওই শিল্পীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার ইচ্ছা রয়েছে তার।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এ ধরনের পারস্পরিক বিনিময়কে অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের মাধ্যমে একটি দেশের গান অন্য দেশের মঞ্চে পৌঁছে যাওয়া সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করে বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় সফরের মতো উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে এমন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
এদিকে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে চীন সফরে অবস্থান করছেন। তার এই ধারাবাহিক বিদেশ সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নানা কর্মকাণ্ড একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করছেন, সংগীতের কোনো সীমানা নেই—ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সুর মানুষের মধ্যে এক অনন্য সংযোগ তৈরি করতে পারে, আর মালয়েশিয়ার মঞ্চে সেই চিত্রই আবারও স্পষ্ট হয়েছে।