খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে মাঘ ১৪৩২ | ২২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬কে সামনে রেখে ক্রিকেট বিশ্বে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব কেন্দ্রবিন্দুতে। জিও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ যদি ভারতের মাঠে ম্যাচ না খেলে, তাহলে পাকিস্তানও পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করার কথা বিবেচনা করতে পারে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সূত্র জানিয়েছে, “আইসিসি যদি বাংলাদেশ সরকারের বা বিসিবির ম্যাচ শিফটের আবেদন মেনে না নেয়, তাহলে পাকিস্তানও একই পথে যেতে বাধ্য হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।”
বাংলাদেশের দাবির মূল কারণ হলো নিরাপত্তা ঝুঁকি। বিসিবি জানিয়েছে, ভারতে খেলতে গেলে খেলোয়াড় এবং দলের নিরাপত্তি সংকটাপন্ন হতে পারে। তারা চায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক। শ্রীলঙ্কা এই বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ায় এই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির সূচনা ঘটে মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজির চুক্তি বাতিলের পর। এরপর বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারও বন্ধ করা হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে বিসিবি বিশ্বকাপে ভারতের মাঠে খেলার বিরোধিতা শুরু করে। বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, “আমরা নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়া ভারত যেতে রাজি নই।”
আইসিসি বাংলাদেশের আবেদন নাকচ করলেও বিসিবি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আইসিসির কাছে আরও সময় চেয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আজ ক্রীড়া উপদেষ্টা দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দলের সিনিয়র খেলোয়াড় যেমন শেখ মেহেদী হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। “আমরা দেশের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ চাই,” বলেছেন তারা।
দলটি দুটি কঠিন পথের মধ্যে রয়েছে:
দাবির বিষয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া।
দাবিতে অটল থেকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া।
আইসিসি স্পষ্ট করেছে, “বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকলে সূচি পরিবর্তন করা হবে না। অন্যথায়, অন্য দলকে বিকল্প হিসেবে নেওয়া হতে পারে।” তারা আরও জানিয়েছে, কোনো পরিবর্তন ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টের জন্য খারাপ নজির তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের গ্রুপ সি-র সূচি নিম্নরূপ:
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | স্থান | শহর |
|---|---|---|---|
| ৭ ফেব্রুয়ারি | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | গ্রুপ ম্যাচ | কলকাতা |
| ৯ ফেব্রুয়ারি | ইতালি | গ্রুপ ম্যাচ | কলকাতা |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি | ইংল্যান্ড | গ্রুপ ম্যাচ | কলকাতা |
| ১৭ ফেব্রুয়ারি | নেপাল | গ্রুপ ম্যাচ | মুম্বাই |
সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ গ্রুপের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচ মুম্বাইয়ে খেলবে। বিশ্বকাপের উদ্বোধন ৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া বাংলাদেশের জন্য কেবল আন্তর্জাতিক মর্যাদা নয়, দেশের ক্রিকেট এবং খেলোয়াড়দের মনোবল নিয়েও সম্পর্কিত। খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশিরভাগ সিনিয়র সদস্য অংশগ্রহণের পক্ষে থাকলেও বিসিবির সিদ্ধান্ত পুরো দলের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটবিশ্ব এখন দেখছে বাংলাদেশ কিভাবে এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে।