খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলায় যমুনা অয়েল কোম্পানির লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুবকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার ভোরে চান্দগাঁও থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি সেপ্টেম্বরে দায়ের করা হয়েছিল। এয়াকুবকে গ্রেপ্তারের পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মুহাম্মদ এয়াকুব ১৯৯৭ সালে যমুনা অয়েল কোম্পানিতে টাইপিস্ট হিসেবে চাকরি শুরু করেন। তার বাবা মো. আবুল কাশেমও কোম্পানিতে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি চাকরি পান। ২০০৯ সালে কোম্পানির লেবার ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন এবং এক বছর পর সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন। প্রায় দেড় দশক ধরে তিনি এই পদে ছিলেন। তবে গত বছর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তিনি শ্রমিক লীগের সংগঠনকে শ্রমিক দলের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন।
যমুনা অয়েলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, এয়াকুবের চাকরির শুরুতে মূল বেতন ছিল মাত্র ৯৩৫ টাকা। বর্তমানে মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ৩৭,৫০৩ টাকা, মোট বেতন দাঁড়িয়েছে ৮৫,১০০ টাকায়। তিনি চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকায় খুলশীতে ৪,০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে বসবাস করেন এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া তিনি ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোবাসে যাতায়াত করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে এয়াকুবের বিভিন্ন সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বোয়ালখালী, ডবলমুরিং ও খুলশী এলাকায় তার বেশ কিছু জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বাজার মূল্য কোটি টাকার বেশি।
| সম্পদের ধরন | অবস্থান | পরিমাণ/আয়তন | ক্রয়মূল্য / মূল্যায়ন |
|---|---|---|---|
| জমি | চট্টগ্রাম, পতেঙ্গা | ৬% | ২১ লাখ টাকা |
| জমি (যৌথ) | ডবলমুরিং, আগ্রাবাদ | ৪% | ৫০ লাখ টাকা |
| জমি | বোয়ালখালী | ১৪%, ১১.৫%, ১২% | তথ্য অনুসারে |
| ফ্ল্যাট | খুলশী, দামপাড়া | ৪,২০০ বর্গফুট | ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা |
এয়াকুবের গ্রেপ্তার ও সম্পদের বিষয়টি দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যমুনা অয়েলের কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে এই ঘটনায় সরগরম আলোচনা চলছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, দীর্ঘদিন লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন তার সম্পদের হেরফের ও বিনিয়োগের উৎস নিয়ে।
এই ঘটনায় আদালতের বিচার প্রক্রিয়া এবং দুদকের তদন্ত নজরকাড়া পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন শহরে সংবাদটি আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে মামলার ফলাফল ও সম্পদের বিস্তারিত তদন্ত প্রকাশ করলে সমাজে আরও স্বচ্ছতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।