খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে মাঘ ১৪৩২ | ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দীর্ঘ ১৯ বছর পর পাকিস্তানের লাহোরে আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ‘বসন্ত’। ২০০৭ সালে ঘুড়ির ধারালো সুতা ও আকাশমুখী গুলিবর্ষণের কারণে নিরাপত্তার খাতিরে নিষিদ্ধ হওয়া এই উৎসব এবার ফের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আনন্দে ভরিয়ে তুলেছে।
উৎসবের শুরু হয়েছে লাহোরের পুরোনো শহরের সরু গলি থেকে বহুতল ভবনের ছাদ পর্যন্ত। আকাশে উড়ছে হাজার হাজার রঙিন ঘুড়ি, বাজছে ড্রামের তাল, আর হইহুল্লোড় সৃষ্টি করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন প্রজন্মের তরুণরা প্রথমবারের মতো নাটাই-সুতা হাতে ঘুড়ি উড়িয়ে তার আনন্দ উপভোগ করছে, যেখানে প্রবীণরা দীর্ঘ বিরতির পর তাদের প্রাচীন দক্ষতা প্রদর্শন করছেন।
২৫ বছর বয়সি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর আহমেদ জানান, “আমার জীবনের প্রথম ঘুড়ি উৎসব এটি। আকাশে রঙিন ঘুড়ি দেখার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।” অন্যদিকে, আমেরিকা থেকে আগত মিনা সিকান্দার বললেন, “এই উৎসব শুধুই ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা নয়, এটি সামাজিক বন্ধন ও ঐতিহ্যের মিলনমেলা।”
উৎসবটি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে পাকিস্তান সরকার ও লাহোর পুলিশ এবার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। উৎসব তিন দিনে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে এবং বড় আকৃতির ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ। এছাড়া বিপজ্জনক সুতা বিক্রি রোধে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ঘুড়ি এবং ২ হাজার সুতা রোল জব্দ করেছে।
নিরাপত্তা তদারকিতে ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার দেখা গেছে। লাহোর পুলিশের ডিআইজি ফয়সাল কামরান জানিয়েছেন, “শহরের ছাদগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে যাতে কেউ নিষিদ্ধ সুতা বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে না পারে।” এছাড়া বৈদ্যুতিক তারে সুতা লেগে শর্ট সার্কিট রোধে বিশেষ জাল বসানো হয়েছে।
নিচের টেবিলে এবার বসন্ত উৎসবে নেওয়া মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| উৎসবকালীন সীমাবদ্ধতা | তিন দিনে উৎসব সমাপ্ত |
| বড় আকৃতির ঘুড়ি নিষিদ্ধ | বড় ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধ |
| বিপজ্জনক সুতা জব্দ | প্রায় ২ হাজার রোল |
| ড্রোন ও সিসিটিভি ব্যবহৃত | শহরের ছাদ ও রাস্তা তদারকিতে ব্যবহৃত |
| মোটরসাইকেল নিরাপত্তা | হ্যান্ডেলে মেটাল রড বসানো |
| বৈদ্যুতিক জাল স্থাপন | শর্ট সার্কিট প্রতিরোধ |
উৎসব কেবল আনন্দ নয়, বরং লাহোরের অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলেছে। রাস্তার হকার, রেস্তোরাঁ, হোটেল মালিক এবং স্থানীয় কারিগররা এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছেন। ইউসুফ সালাহউদ্দিন, একজন উৎসব সমর্থক, বলেন, “ঘুড়ি বিক্রি ও পর্যটকদের উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসার জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে।”
দীর্ঘ দুই দশক পর লাহোরের আকাশে রঙিন ঘুড়ির উড়ানকে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ ঐতিহ্যের জয় হিসেবে দেখছেন। প্রবীণ ও নবীন প্রজন্মের মিলিত আনন্দ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে এই বসন্ত উৎসব সত্যিই ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।