খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৬ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ‘জুলাই-আগস্ট বিজয় শোডাউন’ শীর্ষক এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সরওয়ার আলমগীর এ অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠান চলাকালে অ্যাম্বুলেন্সটি সাইরেন বাজিয়ে পৌরসদর এলাকায় ঘুরে বেড়ায়, তবে এতে কোনো রোগী ছিল না। বরং, এটি রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই অ্যাম্বুলেন্স তো রোগীদের জন্য বরাদ্দ! অথচ এখন তা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের শোডাউনে ব্যবহার হচ্ছে। এটা জনগণের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।’
পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘সরকারি অ্যাম্বুলেন্স শুধু রোগী পরিবহনের জন্য অনুমোদিত। অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। করোনাকালে একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুলেন্সটি পৌরসভাকে দান করেছিল। কোনোভাবেই এটি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।’
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. সরওয়ার আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিজয় শোডাউনে রোগীদের স্বার্থে অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়া নিয়েছিলাম। সেটা সরকারি না বেসরকারি জানতাম না। এটি ব্যবহারও হয়েছে রোগী তথা দলের আহত কর্মীদের কাজে।’
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহার বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে দলের শোডাউনে সরকারি সম্পত্তির ব্যবহার কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এটা রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও অপরিপক্বতা। দলকে ডুবাতে এটি একটি ইস্যু হতে পারে। বিএনপির বিরুদ্ধে আজও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি খারাপ বার্তা। একটি নতুন ও গণতান্ত্রিক দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এসব গর্হিত কাজ।’
ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। এটা রোগীদের নামমাত্র ভাড়া দিয়ে আমরা ব্যবহারের সুযোগ দেই। রাজনৈতিক দলের প্রোগ্রামে এটা ব্যবহার করা অগ্রহণযোগ্য। আমাদের যেই এর পেছনে জড়িত থাকুক, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এসআই