খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলমের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করার জেরে বরখাস্ত হয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মচারী। সংশ্লিষ্ট কর্মচারী মো. নাজমুল হুদা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনা অনুযায়ী, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সারজিস আলমের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করে নাজমুল লেখেন, ‘আপনারা স্বৈরাচারী সরকারের দোসরদের সচিব বানানোর জন্য ডিও দেন, আবার বড় বড় কথা বলেন।’ এ মন্তব্যের পরদিন, ২০ ফেব্রুয়ারি, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দা সাদিয়া নূরীয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরবর্তীতে, ১৩ মার্চ নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে মন্ত্রণালয়। মামলার অভিযোগনামায় উল্লেখ করা হয়, তার মন্তব্য ‘জাতীয় ঐক্য চেতনার পরিপন্থি’ এবং এটি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রকে হেয়প্রতিপন্ন করতে পারে। সেই সঙ্গে বলা হয়, একজন সরকারি কর্মচারীর এমন মন্তব্য সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় অসদাচরণ হিসেবে গণ্য।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দা সাদিয়া নূরীয়া বলেন, ‘বরখাস্তের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের, আমি কেবল ডেস্ক অফিসার হিসেবে আদেশে স্বাক্ষর করেছি।’
নাজমুল হুদা গণমাধ্যমকে জানান, বরখাস্তের পর সারজিস আলম তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভালোভাবে বললে আদেশ প্রত্যাহার হতে পারত।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব তোফাজ্জেল হোসেনের চাপেই তিনি ওই মন্তব্য মুছে ফেলেন।
এদিকে, গত ১৭ মে রাতে অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য ফেসবুকে বিভাগীয় মামলার এজাহারের একটি ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘সারজিস আলমকেও স্যার ডাকতে হবে নাকি এখন?’ ওই পোস্টে সারজিস মন্তব্য করেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং শাস্তি প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করবেন। একইসঙ্গে জানান, চাকরি ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।
সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তাকে একটি ফেসবুক পোস্টে ‘স্যাড’ রিয়্যাক্ট দেওয়ার জন্য শোকজ করা হয়। এরপর থেকেই সরকারি কর্মকর্তাদের সোশ্যাল মিডিয়া কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মন্ত্রণালয়টির ভূমিকা।
খবরওয়ালা/আরডি