এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: ২৩ই জুন ২০২৬, ৬:৪৫ এএম
বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, ইমেরিটাস অধ্যাপক, বিশিষ্ট লেখক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক ও সমাজচিন্তক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী-এর ৯১তম জন্মদিন আজ।
১৯৩৬ সালের ২৩ জুন ঐতিহ্যবাহী বিক্রমপুর পরগনার বাড়ৈখালি গ্রামে তাঁর জন্ম। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন শিক্ষক, গবেষক, সাহিত্যসমালোচক, অনুবাদক, সম্পাদক এবং প্রগতিশীল সমাজচিন্তার অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে।
১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৯৫৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে নিষ্ঠা, মেধা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী আজ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা তাঁর শিক্ষাদানের সাফল্যেরই উজ্জ্বল স্বাক্ষর।
শিক্ষকতার পাশাপাশি ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন অসাধারণ প্রাবন্ধিক। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ১১০-এরও বেশি। সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ, ইতিহাস, রাজনীতি, শিক্ষা ও দর্শন—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি গভীর বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ রচনা করেছেন। প্রবন্ধ ছাড়াও তিনি অনুবাদ সাহিত্য, কথাসাহিত্য এবং গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন।
সত্তরের দশক থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিকে নিয়মিত কলাম লিখে আসছেন। তাঁর বিশ্লেষণধর্মী ও মননশীল লেখাগুলো সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে গবেষক সমাজের কাছেও সমানভাবে সমাদৃত। বিশেষ করে ‘গাছ পাথর’ শীর্ষক কলাম তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও পাঠকপ্রিয়তা এনে দেয়।
বর্তমানে অবসর-পরবর্তী জীবনেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘নতুন দিগন্ত’-এর সম্পাদক হিসেবে তিনি নতুন প্রজন্মের চিন্তা, মনন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সাম্য, মানবমুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শে বিশ্বাসী একজন সুদূরপ্রসারী চিন্তাবিদ। তাঁর লেখায় বারবার উঠে এসেছে শোষণমুক্ত সমাজ নির্মাণ, বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। সমাজ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্নে তিনি আজও আপসহীন।
সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০২২ সালে তাঁকে ‘নজরুল পুরস্কার’-এ সম্মানিত করা হয়, যা তাঁর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
৯১তম জন্মদিনে এই প্রজ্ঞাবান শিক্ষাবিদ, মননশীল লেখক এবং বিবেকবান সমাজচিন্তকের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা, আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।
তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং অব্যাহত সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ কামনা করছি।
শুভ জন্মদিন, অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
আপনার চিন্তার আলো আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাক আরও বহু বছর।
মন্তব্য