খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
হবিগঞ্জের গোপায়া ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামের যুবক আব্দুল মোহিত রাজন (৩০) বিয়ে করেও দীর্ঘসময় সংসার করতে পারেননি। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদের ইয়াসমিন এলাকাতে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির লরির চাপায় তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
নিহত রাজন ছিলেন নূর মিয়ার পুত্র। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজন ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বিয়ে করেছিলেন। মেহেদির রং মোছার পর এক মাসও না যেতেই জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে চলে যান। তিনি রিয়াদে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানেই ঘটেছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
দুর্ঘটনার পর সৌদি পুলিশ লরিচালককে গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপায়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মন্নান, তিনি জানান, খবর পেয়ে সোমবার তিনি নিহত রাজনের বাড়িতে গিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন সহকর্মী লাশ দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করবেন বলেও জানিয়েছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা সানিয়া বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত নন। তবে খোঁজ-খবর নিয়ে পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজন ছিলেন পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল এবং পরিবারকে যথাসম্ভব সাহায্য করতেন। জীবিকার তাগিদে বিদেশে কাজ করতে গিয়েও তিনি পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ বজায় রেখেছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবারকে গভীর শোকে ফেলে দিয়েছে। নববিবাহিতা স্ত্রী এখনও শোকাহত অবস্থায় বাড়িতে রয়েছেন।
| তথ্য | বিবরণ |
| নাম | আব্দুল মোহিত রাজন |
| বয়স | ৩০ বছর |
| গ্রামের নাম | আনন্দপুর, গোপায়া ইউনিয়ন, হবিগঞ্জ সদর |
| পিতার নাম | নূর মিয়া |
| বিবাহের তারিখ | জুলাই ২০২৪ |
| সৌদি আরবে অবস্থান | রিয়াদ, ইয়াসমিন এলাকা |
| দুর্ঘটনার তারিখ ও সময় | ২১ ডিসেম্বর, দুপুর |
| দুর্ঘটনার ধরন | রাস্তা পারাপারের সময় লরির চাপা দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা |
| দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষ | সৌদি পুলিশ; লরিচালক গ্রেফতার |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রবাসে থাকা শ্রমিকদের জন্য সড়ক নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা ট্রাফিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে সচেতন না হলে আকস্মিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন আশা করছেন, নিহত যুবকের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় মানবিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু রাজনের পরিবারকে নয়, পুরো এলাকায় শোক ও সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
বিয়ে ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করা মানুষের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা রাজনের এই অকাল মৃত্যু আরও স্পষ্ট করে তুলে দিয়েছে।