যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতির মধ্যেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ও জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সোমবার এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইব্রাহিম আজিজি, যিনি আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ছিলেন, বলেন যে হরমুজ প্রণালি ইরানের মৌলিক অধিকারভুক্ত এলাকা। তাঁর ভাষায়, এই জলপথ দিয়ে কীভাবে জাহাজ চলাচল করবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানের এখতিয়ারভুক্ত।
এর আগে তিনি তেহরানের একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনুমতি প্রদানও ইরানের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের অংশ।
এদিকে ওমান উপসাগর থেকে জব্দ করা ইরানি পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এমভি তুসকার ২২ জন নাবিককে পাকিস্তানে হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল সামরিক কমান্ডের একজন মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, নাবিকদের পাকিস্তানে হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে ছয়জনকে একটি আঞ্চলিক দেশের মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছিল, যাদেরকে নাবিকদের পরিবারের সদস্য হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত ২০ এপ্রিল এমভি তুসকা জাহাজটি জব্দ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ভঙ্গ করার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে ইরান এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দেয়।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে বিপুল সংখ্যক জাহাজ আটকে রয়েছে। এসব ঘটনার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
নিচে পরিস্থিতির প্রধান তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| জব্দ করা জাহাজ |
এমভি তুসকা (ইরানি পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ) |
| নাবিক সংখ্যা |
২২ জন |
| হস্তান্তর স্থান |
পাকিস্তান |
| জব্দের তারিখ |
২০ এপ্রিল |
| জব্দের কারণ (যুক্তরাষ্ট্রের দাবি) |
নৌ অবরোধ ভঙ্গ |
| ইরানের প্রতিক্রিয়া |
জলদস্যুতা হিসেবে অভিহিত |
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনার কারণে প্রায় দুই হাজার জাহাজ এই অঞ্চলে চলাচলে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব জাহাজে ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য অবস্থান করছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, আটকে থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার, বাল্ক ক্যারিয়ার, কার্গো জাহাজ এবং ক্রুজ লাইনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ধারাবাহিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যার ফলে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও প্রভাব পড়তে পারে।