খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা–অগ্নিসংযোগে পুড়ে যাওয়া সামগ্রী প্রদর্শনীর মাধ্যমে ৫৭ বছরের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের ক্ষয়ক্ষতি জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটি মঙ্গলবার তাদের কার্যালয়ের সামনে প্রদর্শনী ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার অভিযোগ করেন, হামলার ২৪ দিন পার হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি তাদের খোঁজ খবর নেননি। ন্যূনতম সহানুভূতিও প্রকাশ করা হয়নি। জামসেদ আনোয়ার লিখিত বক্তব্যে বলেন, “সংস্কৃতি উপদেষ্টার নির্লিপ্ততা দেশের বৃহত্তম গণভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনটির ওপর এই হামলার পরও অনেক প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।”
জামসেদ আনোয়ার হামলাটিকে সুপরিকল্পিত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতাবিরোধী, উগ্র সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিবাদী শক্তি এতে জড়িত। উদীচী কার্যালয় ছিল প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যা এখন ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ছায়ানট, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের ওপর হামলার পর পরের দিন উদীচীকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকাশ্য সমাবেশে ছাত্রশিবির নেতাদের হুমকির বিষয়টি সবার জানা ছিল, কিন্তু প্রতিরোধমূলক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নেওয়া গেলেও হামলার দিন তা পাওয়া যায়নি।”
অন্তর্বর্তী সরকার এবছর উদীচীকে বার্ষিক সরকারি অনুদান থেকে বাদ দিয়েছে। হাবিবুল আলম বলেন, “এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। উদীচীকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।” হামলার পর মামলা করা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হলেও এখনো কোনো আসামি শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হয়নি।
| মাধ্যম | অ্যাকাউন্ট / নম্বর | ব্যাংক / প্ল্যাটফর্ম |
|---|---|---|
| ব্যাংক | ০০০২৬০২০০৬০১৮ | সোনালী ব্যাংক, লোকাল অফিস, ঢাকা |
| বিকাশ | ০১৯৬৫৮৪৪৬৮৭ (পার্সোনাল) | বিকাশ |
প্রদর্শনী ও ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “এরকম অনুভূতি এর আগে হয়েছে ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর। সেই সময়ও স্বাধীনতাবিরোধীরা মানুষ হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে দিয়েছিল।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, উদীচীর সহসভাপতি রফিকুল হাসান জিন্নাহ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি নিখিল দাস ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে উদীচীর সদস্যরা সম্মিলিত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন।