খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
ইন্দোনেশিয়া থেকে সম্প্রতি এক বিস্ময়কর অথচ বিতর্কিত বিয়ের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ, যার নাম তারমান, নিজের চেয়ে বয়সে প্রায় ৫০ বছরের ছোট এক তরুণীকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কেবল বয়সের বিশাল ব্যবধানই নয়, এই বিয়ে আলোচনায় আসার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এর পেছনে তারমানের ব্যয় করা বিপুল পরিমাণ অর্থ। ২৪ বছর বয়সী ওই তরুণীকে বিয়ে করতে গিয়ে তিনি সব মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করেছেন বলে জানা গেছে।
তারমান এবং তার তরুণী সহধর্মিণীর এই অসম প্রেমের গল্পটি শুরু থেকেই নাটকীয়তায় পূর্ণ ছিল। কনের পরিবারের অনেক সদস্যই শুরুতে বয়সের এই আকাশপাতাল পার্থক্যের কারণে বিয়েতে ঘোর আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে তরুণী নিজে তারমানের প্রস্তাবে সম্মতি জানালে পরিস্থিতি বদলে যায়। ইন্দোনেশিয়ার অনেক অঞ্চলের সামাজিক রীতি অনুযায়ী, বিয়েতে বর পক্ষকে ‘ব্রাইড প্রাইস’ বা কনে পক্ষকে মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করতে হয়। তারমান এই শর্ত সানন্দে গ্রহণ করেন এবং বিয়ের খরচ জোগাতে কোনো কার্পণ্য করেননি।
বিয়ের আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো রাজকীয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন থেকে শুরু করে সাজসজ্জা—সবকিছুতেই ছিল আভিজাত্যের ছাপ। বিয়ের দিন তারমান কনের হাতে ১ কোটি ৬০ লক্ষ ভারতীয় রুপির সমপরিমাণ (ইন্দোনেশীয় মুদ্রায় কয়েক বিলিয়ন রুপিয়াহ) একটি চেক তুলে দেন। এই অর্থটি ছিল মূলত ‘ব্রাইড প্রাইস’ হিসেবে চুক্তিবদ্ধ অর্থের চেয়েও অনেক বেশি।
এক নজরে বিয়ের খরচের আনুমানিক বিবরণ:
| খাতের নাম | ব্যয়ের বিবরণ (আনুমানিক) | মন্তব্য |
| ব্রাইড প্রাইস | ১ কোটি ৬০ লক্ষ রুপি (সমমান) | কনের হাতে সরাসরি চেক প্রদান। |
| অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন | প্রায় ৪০ লক্ষ রুপি | রাজকীয় ভোজ ও সাজসজ্জা। |
| উপহার ও গয়না | কয়েক লক্ষ রুপি | মূল্যবান অলঙ্কার ও পোশাক। |
| মোট আনুমানিক ব্যয় | ২ কোটি টাকা (বাংলাদেশি মানে) | পুরো খরচই বৃদ্ধ তারমান বহন করেন। |
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নবদম্পতি একটি সাধারণ বাইকে চড়ে কনের বাড়ি ত্যাগ করছেন। এই সাদামাটা বিদায়ের পরেই অভিযোগ ওঠে যে, বিয়ের ছবি ও ভিডিও ধারণের দায়িত্বে থাকা ফটোগ্রাফার এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট দলের পাওনা টাকা পরিশোধ না করেই তারমান চম্পট দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছেও অভিযোগ জানানো হয় এবং ওই বিশাল অঙ্কের চেকের সত্যতা নিয়ে জনমনে সন্দেহের দানা বাঁধে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যেমন ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এ খবরটি ছড়িয়ে পড়লে তারমান মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোথাও পালিয়ে যাননি এবং যে চেকটি তিনি দিয়েছেন সেটি শতভাগ আসল। কনের পরিবার থেকেও জানানো হয়েছে যে, নবদম্পতি বর্তমানে সুখী আছেন এবং যথাযথ নিয়ম মেনেই সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা চললেও তারমান ও তার তরুণী স্ত্রী বর্তমানে লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেদের সময় কাটাচ্ছেন।