খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির ঘটনায় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ তার দুই সহযোগীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তরা শুধু চাঁদা দাবি করেননি, বরং ভুক্তভোগী জেলেদের মারধর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে কলাপাড়া পৌর শহরের উকিল পট্টি এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সুমন ফকিরকে সহ দুই সহযোগী সজীব ফকির ও মো. রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমন ফকির নীলগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযান ভুক্তভোগী জেলে চান মিয়া গাজীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে।
ভুক্তভোগী জেলের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ বছর ধরে সরকারি খাল-বিলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। গত কিছুদিন ধরে সুমন ফকির ও তার সহযোগীরা দাবি করে আসছিলেন, ওই খালে মাছ ধরতে হলে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে অভিযুক্তরা সশস্ত্র অবস্থায় চান মিয়ার বাড়িতে পৌঁছে চাঁদা নেওয়ার চেষ্টা করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা তাঁকে মারধর করে খালে ফেলে দেন। এ সময় চান মিয়ার মেয়ে বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়।
চান মিয়া আরও জানান, এর আগে ভয়ভীতি দেখিয়ে সুমন বাহিনী তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে। এবার শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দিতে আসার পথেও সুমন বাহিনী তার গতিরোধ করার চেষ্টা করেছে। তবে স্থানীয় উপজেলা বিএনপির নেতারা তাকে সহায়তা করেছেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
| নাম | পদবী / সম্পর্ক | গ্রেপ্তার তারিখ | অভিযোগের ধরন |
|---|---|---|---|
| সুমন ফকির | নীলগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক | ১ মার্চ ২০২৬ | চাঁদাবাজি, মারধর, লুটপাট |
| সজীব ফকির | সহযোগী | ১ মার্চ ২০২৬ | চাঁদাবাজি, সহিংসতা |
| মো. রাসেল | সহযোগী | ১ মার্চ ২০২৬ | চাঁদাবাজি, সহিংসতা |
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং কলাপাড়ায় অরাজকতা রোধে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামাজিক সংগঠন এবং জনসাধারণ পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, আইনের আওতায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হবে।
এই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, চাঁদাবাজি এবং সহিংসতার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।