নারী ফুটবলের বিকাশে নতুন যুগের সূচনা করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এখন থেকে সংস্থার অধীনে আয়োজিত সব বৈশ্বিক নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের কোচিং প্যানেলে অন্তত দুইজন নারী কোচ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু উপস্থিতি নয়, এই দুইজনের মধ্যে অন্তত একজনকে প্রধান কোচ বা সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করতে হবে—এমন শর্তও যুক্ত করা হয়েছে নতুন বিধানে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফিফার এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে আসন্ন অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ, পাশাপাশি ফিফা নারী চ্যাম্পিয়ন্স কাপ থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হবে। শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়েই নয়, ফিফার অধীনস্থ সব নারী প্রতিযোগিতা—যার মধ্যে রয়েছে সিনিয়র ও যুব পর্যায়ের জাতীয় দলভিত্তিক টুর্নামেন্ট এবং ক্লাব প্রতিযোগিতা—সব ক্ষেত্রেই এই বিধান সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
ফিফার এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে কোচিং পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নারী কোচের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, বিশেষ করে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলোতে। এই বাস্তবতা বদলাতে চায় ফিফা, যাতে মাঠের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাগুলোতেও নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।
ফিফার প্রধান ফুটবল অফিসার জিল এলিস এ প্রসঙ্গে বলেন, কোচিংয়ে নারীদের সংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তিনি মনে করেন, শুধু সুযোগ সৃষ্টি নয়, নারীদের জন্য একটি স্পষ্ট ও কার্যকর পথ তৈরি করা জরুরি। তার ভাষায়, এই নতুন নীতিমালা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নারী কোচদের জন্য একটি বিনিয়োগ, যা তাদের পেশাগত উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাগুলোতে নারীদের উপস্থিতি বাড়ানো এখন অপরিহার্য। নারীদের আরও বেশি করে এই পেশায় যুক্ত করতে পারলেই ফুটবল হবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈচিত্র্যময়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে নারী ফুটবলের সামগ্রিক মানোন্নয়ন ঘটবে। কারণ কোচিং প্যানেলে বৈচিত্র্য বাড়লে কৌশলগত চিন্তাভাবনা ও দল পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। পাশাপাশি তরুণ নারী খেলোয়াড়দের জন্য এটি অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করবে।
নিচে নতুন নিয়মের প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| কোচিং প্যানেলে নারী সংখ্যা | কমপক্ষে ২ জন |
| বাধ্যতামূলক পদ | একজন প্রধান কোচ বা সহকারী কোচ |
| প্রযোজ্য ক্ষেত্র | সব নারী বিশ্ব টুর্নামেন্ট |
| কার্যকর সময় | আসন্ন অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ থেকে |
| আওতাভুক্ত প্রতিযোগিতা | জাতীয় দল ও ক্লাব পর্যায় |
ফিফার এই পদক্ষেপ নারী ফুটবলে সমতা ও অন্তর্ভুক্তির পথে এক বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করে নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



