খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
ঈদের টানা ছুটিতে পার্বত্য জেলা বান্দরবান প্রাণচঞ্চল্য ও আনন্দময় নগরে পরিণত হয়েছে। পাহাড়, সবুজ বনভূমি এবং মেঘের খেলায় মোড়া এই শহরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। শহর ও পার্শ্ববর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের মিলনের এক অনন্য চিত্র উপস্থাপন করছে।
বান্দরবান জেলার পর্যটকপ্রিয় গন্তব্যগুলো হলো নীলাচল, মেঘলা পর্যটনকেন্দ্র, নীলগিরি, প্রান্তিক লেক, শৈলপ্রপাত, বগালেক, দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং, নাফাকুম জলপ্রপাত এবং অমিয়াখুম জলপ্রপাত।
| পর্যটনকেন্দ্র | আকর্ষণ |
|---|---|
| নীলাচল | পাহাড় চূড়া থেকে মেঘের খেলা, দিগন্তজোড়া দৃশ্য |
| মেঘলা পর্যটনকেন্দ্র | পাহাড়ি পথ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য |
| নীলগিরি | সবুজ পাহাড় ও শীতল বাতাস |
| প্রান্তিক লেক | নীরব প্রাকৃতিক পরিবেশ, নৌকাভ্রমণ |
| শৈলপ্রপাত | জলপ্রপাত ও ট্রেকিং সুবিধা |
| বগালেক | রোমাঞ্চকর ট্রেকিং, পাহাড়ি রোমান্স |
| কেওক্রাডং | দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, রাত্রীযাপন সহ ট্রেকিং |
| নাফাকুম জলপ্রপাত | প্রাকৃতিক জলপ্রপাত ও রোমাঞ্চকর দর্শন |
| অমিয়াখুম জলপ্রপাত | শীতল জলধারা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য |
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে শৈলপ্রপাতে ঘুরতে আসেন মো. শাহীন ও সালমা শাহীন দম্পতি, যারা রাজধানীর মালিবাগ থেকে এসেছেন। তারা জানান, “প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা আমাদের মুগ্ধ করেছে। বাস্তবে এসে দেখছি, এটি কল্পনার চেয়েও বেশি সুন্দর।”
বগালেক, কেওক্রাডং, নাফাকুম ও অমিয়াখুম বিশেষ করে তরুণ পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে এগুলোতে পৌঁছানো হয়। রাজশাহীর পর্যটক কাইয়ুমূল হাসান জানান, চার দিনের সফরে তারা বগালেক ও কেওক্রাডং এলাকায় ট্রেকিং করবেন এবং রাত্রীযাপন করবেন।
পর্যটকের উপচে পড়া চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় আবাসন খাত। শহরের হোটেল, মোটেল ও পাহাড়ি রিসোর্টগুলোতে ‘তিল ধারণের ঠাঁই নেই’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
| রিসোর্ট/হোটেল | বুকিং অবস্থা |
|---|---|
| কুটির রিসোর্ট, বগালেক | ১৯ থেকে ২৮ মার্চ সম্পূর্ণ বুকিং |
| সাইরু হিল রিসোর্ট, চিম্বুক | ৮০% কক্ষ আগাম ভাড়া |
| জেলা হোটেল-রিসোর্টস | ৮৫–৯০% বুকিং |
জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে নিয়মিত টহল চালাচ্ছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান এর রিজিয়নাল পরিদর্শক মো. ফরিদ উদ্দিন খাঁন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও তথ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানিয়েছেন, “ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক পর্যটক এসেছে। নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সকল পক্ষ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।”
ঈদের ছুটিতে বান্দরবান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি হিসেবে নিজেকে পুনরায় প্রমাণ করেছে। তবে, এই আনন্দ এবং সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন দায়িত্বশীল ভ্রমণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুপরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা। সেক্ষেত্রে আগামী দিনগুলোতেও বান্দরবান থাকবে মানুষের স্বপ্নময় মিলনস্থল এবং প্রকৃতির সঙ্গে এক অপূর্ব মেলবন্ধনের প্রতীক।