খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান। এই যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে জরুরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রাথমিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ। ফলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর নগরজীবনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফেরানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
তেহরান সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন সড়ক থেকে ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ইতোমধ্যে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে, যাতে জরুরি সেবা এবং ত্রাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে। পাশাপাশি, যেসব এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেখানে মাটি সমান করে পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ শুরু করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসিক ভবন এবং কৌশলগত তেল স্থাপনাসহ প্রায় ১৩ হাজারের বেশি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে ইরানি সূত্র দাবি করেছে। এতে দেশটির নগর অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই সংঘাতে ইরানে ২২ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ হাজারের বেশি আবাসিক ইউনিট। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান সরকার আরও জানিয়েছে, সরাসরি হামলায় ৪ হাজারের বেশি বেসামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৫২৮টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য খাতও এই হামলার বাইরে থাকেনি। তিনটি হাসপাতাল, ১৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ২০টি ত্রাণসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসা সেবায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আহতদের চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ব্যাহত হয়েছে।
নিচে সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| খাত | ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ |
|---|---|
| মোট লক্ষ্যবস্তু স্থাপনা | ১৩,০০০+ |
| বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত | ২২,০০০+ |
| আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত | ১৭,০০০+ |
| সরাসরি আক্রান্ত বেসামরিক/বাণিজ্যিক স্থাপনা | ৪,০০০+ |
| সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত বাণিজ্যিক ইউনিট | ৫২৮ |
| ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল | ৩ |
| স্বাস্থ্যকেন্দ্র | ১৪ |
| ত্রাণসেবা কেন্দ্র | ২০ |
অন্যদিকে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, যার ফলে গোটা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এবং মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি যদি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে রূপ নেয়, তবে তেহরানসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে পরিস্থিতি এখনো নাজুক, এবং টেকসই শান্তির জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।