কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় করলা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক নারীকে গাছে বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের এক কৃষকের করলা ক্ষেতে দীর্ঘদিন ধরে ফল চুরির অভিযোগ চলছিল। এ কারণে জমির মালিক আগ থেকেই নজরদারি বাড়ান। ঘটনার দিন সকালে এক নারীকে ক্ষেত থেকে করলা সংগ্রহের সময় হাতেনাতে আটক করা হয় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। তার কাছ থেকে একটি বস্তাভর্তি করলা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে ওই নারীর স্বামী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর সেখানে ঘটে যায় অমানবিক এক পরিস্থিতি। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীকে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয় এবং তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি তা মোবাইল ফোনে ধারণ করলেও সরাসরি বাধা দেওয়ার উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একাধিক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে কেউ কেউ ঘটনাটি দেখছিলেন। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকেই এ ধরনের শাস্তিকে অমানবিক ও বেআইনি বলে মন্তব্য করেছেন।
জমির মালিক দাবি করেন, তার জমি থেকে প্রায়ই করলা চুরি হয়ে আসছিল। এ কারণে তিনি সতর্ক ছিলেন এবং সেদিন সকালে ঘটনাটি হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হন। অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, নারীকে আটক করে পরিবারের কাছে জানানো হয়েছিল এবং পরে স্বামী এসে তাকে নিয়ে যান। তবে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটির বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন এবং কোনো ব্যক্তিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা আইনবহির্ভূত কাজ। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনাটির সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| ঘটনা স্থান |
বংশীপাড়া গ্রাম, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন, রৌমারী |
| ঘটনার তারিখ |
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) |
| অভিযোগ |
করলা চুরির অভিযোগে আটক |
| আক্রান্ত ব্যক্তি |
এক নারী (প্রায় ৪১ বছর বয়স) |
| মূল ঘটনা |
গাছে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ |
| প্রতিক্রিয়া |
স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা ও ক্ষোভ |
| প্রশাসনিক মন্তব্য |
আইনবহির্ভূত কাজ, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা |
এ ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, যেকোনো অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।