হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সংকট মোকাবিলায় একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর অন্যান্য দেশকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও অব্যাহত রাখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
দুই শত আটাশ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও “ম্যারিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট” নামে একটি নতুন উদ্যোগ অনুমোদন করেছেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের যৌথ প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হবে।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত-পরবর্তী সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবকাঠামো রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের অধিকার বজায় রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর অংশীদার দেশ ও জাহাজ পরিবহন খাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয়ের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড থেকে সরাসরি জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ ও ট্রাফিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক তৎপরতার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং তেলের দামে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি একশো পঁচিশ ডলারের বেশি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানিতে নৌ অবরোধ আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে ব্রিফিং গ্রহণ করবেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
ইরান এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, তাদের ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা “অভূতপূর্ব সামরিক পদক্ষেপ” গ্রহণ করবে এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে। ইরান দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং জ্বালানি মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিচে পরিস্থিতির মূল দিকগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| উদ্যোগ |
আন্তর্জাতিক জোট গঠন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো |
| নাম |
ম্যারিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট |
| নেতৃত্ব |
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা দপ্তর |
| লক্ষ্য |
নিরাপদ জাহাজ চলাচল, জ্বালানি নিরাপত্তা, সমুদ্রপথ রক্ষা |
| বর্তমান প্রভাব |
তেল সরবরাহ ব্যাহত, বাজারে অস্থিরতা |
| তেলের দাম |
ব্রেন্ট ক্রুড একশো পঁচিশ ডলারের বেশি পর্যন্ত বৃদ্ধি |
| ইরানের অবস্থান |
অবরোধের জবাবে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি |
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে পুনরায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।