খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে ২০২৬
ভারতের মুম্বাইয়ে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে বিষাক্ত তরমুজ খাওয়ার কারণে এই মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, সাম্প্রতিক ফরেনসিক প্রতিবেদন ও তদন্তে উঠে আসছে নতুন এবং চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এই ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
গত শনিবার রাতে মুম্বাইয়ের স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ দোখাডিয়ার বাড়িতে একটি পারিবারিক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। নৈশভোজে খাসির পোলাওসহ বিভিন্ন পদের খাবার পরিবেশন করা হয়। অতিথিরা বিদায় নেওয়ার পর, রাত আনুমানিক ১টার দিকে আবদুল্লাহ দোখাডিয়া তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তরমুজ খান।
ভোরের দিকে পরিবারের সবাই হঠাৎ তীব্র বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে পরিবারের চার সদস্যেরই মৃত্যু হয়।
নিহতদের পরিচয়:
আবদুল্লাহ দোখাডিয়া: স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবারের প্রধান।
নাসরিন: আবদুল্লাহ দোখাডিয়ার স্ত্রী।
জয়নাব: আবদুল্লাহর কিশোরী কন্যা।
আয়েশা: আবদুল্লাহর কিশোরী কন্যা।
মৃতদেহগুলোর প্রাথমিক ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ ধরা পড়েছে। চিকিৎসকরা সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার (Food Poisoning) লক্ষণের বাইরেও কিছু ভীতিকর আলামত প্রত্যক্ষ করেছেন।
| পরীক্ষার বিষয় | প্রাপ্ত ফলাফল ও পর্যবেক্ষণ |
| অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবস্থা | মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র এবং অন্ত্রসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে সবুজাভ বর্ণ ধারণ করেছে। |
| বিষক্রিয়ার ধরন | এটি সাধারণ ফুড পয়জনিং নয় বলে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, কারণ সাধারণ বিষক্রিয়ায় অঙ্গের এমন বর্ণ পরিবর্তন বিরল। |
| রাসায়নিক উপস্থিতি | আবদুল্লাহ দোখাডিয়ার শরীরে উচ্চমাত্রার মরফিনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। |
| মরফিনের উৎস | মরফিন একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক। এটি কোনো চিকিৎসার অংশ হিসেবে নাকি অন্য কোনো উপায়ে শরীরে প্রবেশ করেছে, তা এখনো অস্পষ্ট। |
মুম্বাইয়ের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) জানিয়েছে যে, মৃত্যুর সাথে তরমুজের সরাসরি কোনো যোগসূত্র এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিশেষ করে নৈশভোজে খাসির পোলাও খাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর পর্যন্ত তারা সুস্থ ছিলেন। ফলে ঠিক কোন উপাদানটি প্রাণঘাতী বিষ হিসেবে কাজ করেছে, তা নির্ণয়ে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
১. একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
২. পারিবারিক কোনো কলহ কিংবা ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে কেউ খাবারের সাথে বিষ প্রয়োগ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৩. রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য ভিসেরা নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা মনে করছেন, মরফিনের মতো মাদকের বা ওষুধের উপস্থিতি এই মৃত্যুকে ভিন্ন মাত্রা দান করেছে। চূড়ান্ত ফরেনসিক ও টক্সিকোলজি রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত পুলিশ নিশ্চিতভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বর্তমানে পুরো এলাকাটি এই ঘটনার পর থেকে থমথমে অবস্থায় রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।