খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে ২০২৬
পাকিস্তান সুপার লিগের একাদশ আসরে পেশোয়ার জালমিকে শিরোপা এনে দিয়ে আবারও নিজের নেতৃত্বগুণ ও ব্যাটিং দক্ষতার প্রমাণ দিলেন অধিনায়ক বাবর আজম। ফাইনালে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে পাঁচ উইকেটে হারানোর পর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য ফরম্যাট পরিবর্তন নিয়ে চলমান জল্পনার অবসান ঘটান।
সাম্প্রতিক সময়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, বাবর কি ক্রিকেটের কোনো একটি ফরম্যাট থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন কি না। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এমন কোনো পরিকল্পনা তার নেই। প্রশ্ন শুনেই তিনি বিষয়টি থামিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি তিনটি ফরম্যাটেই খেলতে চান এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে সব পর্যায়েই অব্যাহত রাখতে চান।
বাবরের মতে, কোনো খেলোয়াড়ের কাজ হলো মাঠে পারফর্ম করা, ফরম্যাট বেছে নেওয়া নয়। তিনি বলেন, ক্রিকেটের প্রতিটি সংস্করণই আলাদা শিক্ষা দেয় এবং একজন পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেটার হয়ে ওঠার জন্য সব ধরনের ফরম্যাটে খেলা জরুরি। বিশেষ করে দীর্ঘ ফরম্যাট বা লাল বলের ক্রিকেট নিয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এটি একজন ব্যাটসম্যানকে ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং ইনিংস গড়ার দক্ষতা শেখায়, যা সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও সমানভাবে কাজে লাগে।
চলতি আসরে বাবর ছিলেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানদের একজন। পুরো আসরে ১১টি ম্যাচে তিনি ৫৮৮ রান সংগ্রহ করেন এবং দুটি সেঞ্চুরি করেন। রান সংগ্রাহকের তালিকায় তিনি শীর্ষে অবস্থান করেন, যা তার ফর্ম ও ধারাবাহিকতার প্রমাণ বহন করে।
তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও সম্পূর্ণ তৃপ্ত নন বলে জানান বাবর। তার ভাষায়, তিনি যেভাবে খেলতে চেয়েছিলেন, সব সময় তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি, যেখানে চেষ্টা করেও সব সময় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না।
গত আন্তর্জাতিক টোয়েন্টি ওভার বিশ্বকাপের পর কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বাবরকে। সেই সময়ে পারিবারিক সহায়তা, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং কোচদের সহযোগিতা তাকে মানসিকভাবে পুনরায় শক্ত হতে সাহায্য করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এই আসরের আগে সীমিত অনুশীলন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাবর নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ে ফিরে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, তার মূল লক্ষ্য ছিল সহজ ক্রিকেট খেলা, অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে নিজের স্বাভাবিক শটগুলো খেলায় মনোযোগ দেওয়া।
শিরোপা জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাবর বলেন, সাফল্য দেরিতে এলেও সেটি আনন্দের। তার মতে, কিছু অর্জন দেরিতে আসে, আবার কিছু দ্রুত আসে—তবে পরিশ্রমের ফল সব সময়ই মূল্যবান।
| আসর | ম্যাচ | রান | শতক |
|---|---|---|---|
| পাকিস্তান সুপার লিগ (১১তম আসর) | ১১ | ৫৮৮ | ২ |
সব মিলিয়ে বাবরের এই বক্তব্য শুধু গুঞ্জনের অবসানই নয়, বরং তার দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে একটি স্পষ্ট বার্তাও দেয়—তিনি এখনো সব ফরম্যাটেই নিজেকে দেখতে চান এবং ক্রিকেটের প্রতিটি সংস্করণেই অবদান রাখতে প্রস্তুত।