চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি একনলা বন্দুক ও একটি দুইনলা পাইপগান উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৭। সোমবার (১৮ মে) সকালে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে অস্ত্র দুটি উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অভিযানে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
র্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াপাড়া এলাকায় সন্দেহভাজন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় নির্দিষ্ট স্থানে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র দুটি পাওয়া যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা বা কারা এগুলো ব্যবহার করত—এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এগুলো অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র দুটি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাউজান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মাঝেমধ্যে এমন পরিত্যক্ত অস্ত্র বা সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা ঘটে থাকে, যা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও তৎপরতায় এসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এ ধরনের উদ্ধার অভিযান সাধারণত গোপন তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে থাকে। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধ দমন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বিষয়
তথ্য
উদ্ধারকারী বাহিনী
র্যাব-৭
এলাকা
নোয়াপাড়া, রাউজান, চট্টগ্রাম
অভিযানের সময়
সোমবার সকাল
উদ্ধারকৃত অস্ত্র
১টি একনলা বন্দুক, ১টি দুইনলা পাইপগান
বর্তমান অবস্থা
পরিত্যক্ত
পরবর্তী পদক্ষেপ
রাউজান থানায় হস্তান্তর ও তদন্ত
র্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস শনাক্ত ও এর পেছনের চক্র উদঘাটন করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।