সাংবাদিকতার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি: ইরানে দুই ‘অনুপ্রবেশকারী’ গ্রেপ্তার

ইরানের রাজধানী তেহরানে সাংবাদিকতার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সামরিক ও স্পর্শকাতর স্থাপনার তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে দুই জন ‘অনুপ্রবেশকারীকে’ গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। তেহরানের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল থেকে একটি জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়। শাফাক নিউজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) তেহরান গ্রেটার পুলিশ ইনফরমেশন সেন্টার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অভিযানের বিবরণ ও অভিযোগের প্রকৃতি

পুলিশের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা নিজেদের গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। এই পরিচয়ের আড়ালে তারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা সম্পর্কিত অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করতেন। সংগৃহীত এসব তথ্য পরবর্তীতে বিদেশভিত্তিক বিভিন্ন নেটওয়ার্ক বা শত্রুপক্ষের কাছে সরবরাহ করা হতো বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, আটক ব্যক্তিরা ইরানের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে সক্রিয় একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে তদন্তের স্বার্থে কিংবা কৌশলগত কারণে গ্রেপ্তারকৃতদের নাম-পরিচয়, তারা কোন নির্দিষ্ট বিদেশি সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন কিংবা কোন গণমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করছিলেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি ইরান কর্তৃপক্ষ।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্টারলিংক প্রযুক্তির ব্যবহার

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, আটক ব্যক্তিরা অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং এনক্রিপটেড (Encrypted) যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করছিলেন। তারা ইরানের বাইরে পরিচালিত একটি অপারেশন রুমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এই যোগাযোগের জন্য তারা ‘স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট’ প্রযুক্তি ব্যবহার করতেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযানের সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে একটি স্টারলিংক রিসিভারও জব্দ করেছে।

পূর্ববর্তী অভিযান ও প্রেক্ষাপট

ইরানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ১৪ মার্চ ইরানজুড়ে পরিচালিত এক বিশাল নিরাপত্তা অভিযানে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছিল। দেশটির এলিট সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) সেই সময় জানিয়েছিল যে, আটককৃতদের মধ্যে ১৩ জনের কাছ থেকে তিনটি স্টারলিংক টার্মিনাল উদ্ধার করা হয়।

নিচে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সংঘটিত নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অভিযান ও স্টারলিংক সরঞ্জাম উদ্ধারের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

অভিযানের তারিখ আটককৃত ব্যক্তির সংখ্যা উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম অভিযানের মূল কারণ ও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা
১৪ মার্চ ২৭ জন ৩টি স্টারলিংক টার্মিনাল দেশজুড়ে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অবৈধ কর্মকাণ্ড ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)
১৯ মে (সাম্প্রতিক) ২ জন ১টি স্টারলিংক রিসিভার সাংবাদিক পরিচয়ে সামরিক ও স্পর্শকাতর স্থাপনার তথ্য পাচার তেহরান গ্রেটার পুলিশ

বর্তমান পরিস্থিতি

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত এই দুই ছদ্মবেশী সাংবাদিকের নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তারা ঠিক কতদিন ধরে এই ধরনের তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন, তা উদঘাটন করতে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকৃত এনক্রিপটেড ডিভাইস এবং স্টারলিংক রিসিভারটি ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে, যা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।