খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় মোটরসাইকেলে এসে পৃথক দুটি স্থানে দুই ভাইকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নে কাছাকাছি দূরত্বের দুটি ভিন্ন স্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ডিশ এবং ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই গুলির ঘটনা ঘটেছে।
সন্ত্রাসীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন মো. ইসমাইল (৩৫) এবং তাঁর ছোট ভাই মো. শিপন (৩২)। তারা দুজনই স্থানীয় বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ছয়তলা–সংলগ্ন এলাকায় ভার্চ্যুয়াল পোশাক কারখানার গলিতে বসে ছিলেন মো. ইসমাইল। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৯ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী সেখানে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলি ছোড়ে। এতে ইসমাইলের ডান পা ও পিঠে গুলি লাগে।
এই ঘটনার পরপরই সন্ত্রাসীরা পুনরায় মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে অদূরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পেছনে যায়। সেখানে বসে থাকা ইসমাইলের ছোট ভাই মো. শিপনকে লক্ষ্য করে তারা পুনরায় গুলি ছুড়লে তিনিও ডান ঊরুতে গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৯ জন হামলাকারী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে দুই ভাইকে পৃথক স্থানে গুলি করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
গুলির ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ভাইকে উদ্ধার করে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ জানান, রাত ১০টার দিকে ইসমাইল ও শিপনকে হাসপাতালে আনা হয়। ইসমাইলের ডান পা ও পিঠে এবং শিপনের ডান ঊরুতে গুলির গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহতদের শারীরিক অবস্থা ও আঘাতের স্থানসমূহ নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| আহত ব্যক্তির নাম | বয়স | আঘাতের স্থান (গুলির অবস্থান) | প্রাথমিক চিকিৎসার স্থান | উন্নত চিকিৎসার স্থান |
| মো. ইসমাইল | ৩৫ বছর | ডান পা এবং পিঠ | নারী ও শিশু হাসপাতাল, আশুলিয়া | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| মো. শিপন | ৩২ বছর | ডান ঊরু | নারী ও শিশু হাসপাতাল, আশুলিয়া | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী সবুজ সরকার জানান, তিনি আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ছয়তলা–সংলগ্ন এলাকায় ডিশ ও ইন্টারনেটের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আহত মো. শিপন তাঁর প্রতিবেশী এবং তাঁর এই ব্যবসার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। সবুজ সরকার দাবি করেন, তাঁর ব্যবসা নিয়ে ইতিপূর্বে কোনো ধরনের বিরোধ বা ঝামেলা ছিল না। শত্রুতাবশত কেউ এই কাজ করে থাকলে দুই ভাইকে দুটি ভিন্ন জায়গায় গিয়ে কেন গুলি করা হলো, তা তাঁর বোধগম্য নয়। তিনি এই ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে, ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ বা দখলকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। পুলিশ ইতিমধ্যেই অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় অভিযান ও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।