ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীর হাট দাখিল মাদ্রাসায় টানা ২২ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ক্লাস চালাতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় এক পরিবারের বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। প্রায় ২২ দিন আগে ওই বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি দেখা দেয় এবং সংযোগটি পুড়ে যায়। পরে নতুন করে সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাসিন্দারা তাদের বাড়ির ওপর দিয়ে লাইন নিতে বাধা দেন। এর ফলে এখন পর্যন্ত মাদ্রাসাটিতে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
মাদ্রাসার দায়িত্বশীলরা জানান, একাধিকবার স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে ফ্যান চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে গরমে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি অফিস কার্যক্রম, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বিদ্যুৎবিহীন থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন বলে তারা দাবি জানিয়েছেন।
মাদ্রাসার সুপার জানান, টানা ২২ দিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। এতে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার স্থানীয় দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুরোনো সংযোগটি পুড়ে যাওয়ার পর নতুন সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট স্থানের ওপর দিয়ে লাইন নিতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকরা এতে সম্মতি দিচ্ছেন না। বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত একটি সমাধান আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বর্তমান অবস্থার সারসংক্ষেপ
পক্ষ
বর্তমান অবস্থা
সমস্যা
পদক্ষেপ
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ
বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কার্যক্রম চালাচ্ছে
পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত
দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি
স্থানীয় পরিবার
বিদ্যুৎ লাইন দিতে অসম্মতি
বাড়ির ওপর দিয়ে লাইন নেওয়া নিয়ে আপত্তি
সমঝোতা আলোচনায় অংশগ্রহণ
বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা
সমাধানের চেষ্টা চলছে
লাইন স্থাপনে বাধা
স্থানীয়ভাবে আলোচনা অব্যাহত
উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তর
বিষয়টি অবগত
সমন্বয়ের অভাব
দ্রুত সমাধানের আশ্বাস
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আবারও স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠ গ্রহণে ফিরতে পারে।