যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হাজারের বেশি মৃত্যু
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে অবরুদ্ধ এই উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় বিভিন্ন হামলায় মোট এক হাজার পাঁচজন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বড় পরিসরের লড়াই কিছুটা কমলেও বিভিন্ন সময় হামলা অব্যাহত থাকে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এর পরবর্তী ধাপ নিয়ে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, যুদ্ধবিরতির পর ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হবে। তবে এসব বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি সময় সময় দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ অঞ্চল বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো হাসপাতালই পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারছে না, ফলে আহত ও রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস-এর গাজা বিষয়ক পরিচালক ফিকর শালতুত বলেন, গাজা আরও একটি বেদনাদায়ক মাইলফলকে পৌঁছেছে। তিনি উল্লেখ করেন, হাজার হাজার মানুষকে বলা হয়েছিল সবচেয়ে কঠিন সময় শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু তারা এখনো প্রিয়জনদের দাফন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অন্যদিকে চলতি মাসের শুরুতে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান একটি গণমাধ্যমকে জানান, হামাস এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না। তিনি বলেন, অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার পরই অস্ত্র ভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে।
যুদ্ধবিরতির পর গাজার পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের আশা করা হলেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাতের ফলে গাজার সামাজিক ও অবকাঠামোগত পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাজার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গাজার মানবিক পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
বিষয়
তথ্য
যুদ্ধবিরতির পর নিহত সংখ্যা
১,০০৫ জন
মোট নিহত (২০২৩ অক্টোবর থেকে)
৭৩,০০০+ জন
বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যা
প্রায় ১৯ লাখ
হাসপাতালের সংখ্যা
৩৭টি
আংশিকভাবে চালু হাসপাতাল
২০টি
সম্পূর্ণ কার্যকর হাসপাতাল
নেই
নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা (দাবিকৃত)
প্রায় ৬৪ শতাংশ
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।