খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া উত্তর সীমানা থেকে রোনবাগ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নিয়ম উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি কাজ চালানোর কারণে নতুন কার্পেটিং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই উঠে যেতে শুরু করেছে। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে সড়কের বাকি অংশের কাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর শুরু থেকেই নিয়ম মানা হয়নি। পুরনো সড়কের ওপর জমে থাকা কাদা-মাটি পরিষ্কার না করেই সেখানে সামান্য পিচজাত উপাদান ছিটিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। কোথাও কোথাও পুরনো ভাঙা ইট, রাবিশ ও নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে তিন দিনের মধ্যেই নতুন ঢালাই হাতের চাপ বা পায়ের আঘাতেই উঠে যাচ্ছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সড়ক উন্নয়ন, একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ এবং বেদকাশী এলাকার আরও প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নসহ পুরো কাজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পায় মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল, আর শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৪ নভেম্বর। তবে দেরিতে কাজ শুরু করে এখন সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় দ্রুত কাজ শেষ করতে গিয়ে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, একাধিক স্থানে সদ্য করা কার্পেটিং ফেটে গেছে। কোথাও কোথাও স্তর আলগা হয়ে উঠছে। সড়কের কোনো অংশেই প্রকল্পের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি। কাজ চলাকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাকেও সেখানে পাওয়া যায়নি।
ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জামাল ফারুক বলেন, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। মাটি ও ধুলার ওপর নামমাত্র পিচজাত উপাদান ব্যবহার করায় এখন তা সহজেই উঠে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শহিদুল জানান, নিচু অংশে কাজ করার সময় রোলার চালাতেই ফাটল দেখা দিয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, বর্ষায় ওই অংশ ভেঙে পড়তে পারে।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাজের দায়িত্বে থাকা মো. হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে এবং এটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তার দাবি, কিছু অংশে উপরের স্তর আলগা হওয়াকে ভুলভাবে দেখা হচ্ছে, পরে আরও স্তর যুক্ত হলে তা ঠিক হয়ে যাবে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক প্রকৌশলী জানান, প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।