খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
মঙ্গল গ্রহে মানববসতি গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন স্পেসএক্স ও এক্স-এর (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্ক। লাল গ্রহে পা রাখার এই প্রতিযোগিতায় তাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিল গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সাবেক চেয়ারম্যান এরিক শ্মিটের প্রতিষ্ঠান ‘রিলেটিভিটি স্পেস’। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পরবর্তী মঙ্গল অভিযানের জন্য মহাকাশযান তৈরির কাজ পেয়েছে তারা। এই দৌড়ে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সকে পেছনে ফেলে নাসার সঙ্গে বড় চুক্তিটি বাগিয়ে নিয়েছে রিলেটিভিটি স্পেস। চুক্তি অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের তৈরি বিশেষ মহাকাশযানটি নাসার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি নিয়ে মঙ্গলের বুকে পাড়ি জমাবে এবং সেখানে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে।
নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে এই মহাকাশযানটি মঙ্গলের উদ্দেশে উৎক্ষেপণ করা হবে। মহাকাশ বিজ্ঞানের জটিল হিসাব-নিকাশে এই সময়সীমা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। রিলেটিভিটি স্পেসকে এখন এই অল্প সময়ের মধ্যে নাসার ভারী ও সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ বহনের উপযোগী মহাকাশযান তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে মহাকাশে যাওয়ার জন্য মূল রকেটের নির্মাণকাজও সফলভাবে শেষ করার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে তাদের সামনে। থ্রিডি প্রিন্টেড রকেট তৈরির প্রযুক্তিতে রিলেটিভিটি স্পেসের দারুণ সুনাম থাকায় নাসা তাদের ওপর এই আস্থা রেখেছে।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক বিবৃতিতে এই যৌথ অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, নাসার বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সঙ্গে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটিয়ে অনেক বড় সাফল্য পাওয়া সম্ভব। এর মাধ্যমে অনেক বেশি এবং নিখুঁত বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। এই নতুন উদ্যোগটি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব মিশন পাঠানোর ক্ষেত্রে গবেষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য অনেক দ্রুত সরবরাহ করতে সাহায্য করবে।
আমেরিকার এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি জানিয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করা। এর জন্য মহাকাশযানটিতে মোট চারটি অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্র পাঠানো হবে। যন্ত্রগুলো মঙ্গলের কক্ষপথে ঘুরে ঘুরে সেখানকার বায়ুমণ্ডলের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে।
গবেষকদের আশা, এই যন্ত্রগুলোর পাঠানো ডেটা পর্যালোচনার মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহের ধূলিকণা, বাতাস ও তাপমাত্রার প্রথম দৈনিক ও বৈশ্বিক চিত্র পাওয়া যাবে। লাল গ্রহের আবহাওয়া ঠিক কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে এই তথ্যগুলো ভীষণ জরুরি। এই অভিযানের সাফল্য ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানুষের ল্যান্ডার পাঠানো এবং মানব মিশনকে আরও নিরাপদ ও সহজ করে তুলবে। বিশ্বখ্যাত দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের এই পরোক্ষ লড়াই মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎকে আরও গতিশীল করে তুলল।