খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের মা ও চার কন্যা নিহত হয়েছেন। ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণের পর গুরুতর আহত কিশোরী ইকরা বেগম (১৭) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। এর আগে একই ঘটনায় তার মা ও দুই বোন ঘটনাস্থলেই এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক গণপিটুনিতে আহত হয়ে পরে মারা যান।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা এলাকার নদীর পাড়ের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদার (২৮) হঠাৎ করেই বাসায় ঢুকে মা ও চার কন্যার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ চালান। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম (৪০) এবং তার মেয়ে সিপা আক্তার (১০) প্রাণ হারান। গুরুতর আহত অবস্থায় ছায়মা আক্তার (২১) ও ইকরা বেগমকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ছায়মা আক্তার লক্ষ্মীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ইকরা বেগম ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে পালিয়ে যেতে দেখে আটক করেন এবং গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।
নিহতদের পরিবার কয়েক বছর ধরে রায়পুর পৌর শহরের ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আগেই মৃত্যুবরণ করায় মা শাহিনুর বেগম বিভিন্ন কাজ করে সন্তানদের বড় করছিলেন। তাদের তিন কন্যার মধ্যে একজন কলেজ এবং অন্যরা স্কুল ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
রায়পুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। হামলাকারীর সঙ্গে পরিবারের পূর্ব পরিচয় ছিল কি না, কিংবা কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে অস্থিতিশীল বা মাদকাসক্ত হতে পারেন, তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে পুরো এলাকায় এই ঘটনায় গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।