হৃদয় পান্ডে
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
১.
নতুন যুদ্ধের উপকরণ
পুড়ে যাওয়া নগরীর ধ্বংসস্তূপে
নতুন যুদ্ধের উপকরণ জন্ম নেয়।
রক্তমাখা পোশাক, গুলির খালি খোলস,
ভস্মীভূত ঘরের দেয়াল—
সবই সংরক্ষিত থাকে পরবর্তী সংঘাতের জন্য।
একটি শিশু কাঁদতে কাঁদতে শিখে ফেলে
কোনো শব্দ মানে বিস্ফোরণ,
কোনো ছায়া মানে মৃত্যু,
কোনো মুখ মানে প্রতিশোধের প্রতিচ্ছবি।
যুদ্ধ শেষ হয় না কখনো,
শুধু বদলে যায় হাতিয়ার,
নতুন মুখ শেখে পুরোনো রক্তের ভাষা,
পুরোনো শহরে নেমে আসে নতুন দামামা।
২.
আমরাই যুদ্ধের পরবর্তী বীজ
আমাদের রক্তে লেখা থাকে প্রতিশোধের উপাখ্যান,
আমাদের হাড়ে জমে থাকে পুড়ে যাওয়া নগরীর গন্ধ।
শৈশব কেটে যায় বন্দুকের ছায়ায়,
অভ্যস্ততায় পরিণত হয় বিস্ফোরণের ভাষা।
প্রতিটি যুদ্ধ রেখে যায় নতুন যুদ্ধের উপকরণ,
আমাদের অস্থি থেকে জন্ম নেয় পরবর্তী সংঘাতের অস্ত্র।
৩.
জাস্ট একটা বুলেট
জাস্ট একটা, জাস্ট একটা বুলেট ঠুকে দিয়ে যান মাথায়।
আলো নিভে গেছে বহুদিন,
জীবনের দরজা বন্ধ, জানালাগুলো ভাঙা।
শরীরে আর কাঁপুনি নেই, হৃৎস্পন্দনও অলস,
এখন শুধু একটা শেষ শব্দ দরকার—
একটা ধাতব ঝংকার, একটা চিরতরে থেমে যাওয়া।
জাস্ট একটা, জাস্ট একটা বুলেট—
মস্তিষ্কের ভেতর অন্ধকারের ফুল ফোটাবে,
স্মৃতির দেয়ালে ছিটিয়ে দেবে লাল রং,
শব্দ থেমে যাবে, সময় জমে যাবে,
আমিও শেষবারের মতো বিশ্রাম নেব।
৪.
কাঠের পাটাতন
সরিয়ে দাও কাঠের পাটাতন,
আমার পা দুটো শূন্যে দুলতে দাও।
হাসিমুখে বিদায় জানিয়েছি,
এবার দড়িটা শক্ত করে টান দাও।
আমি তো কিছু চাইনি,
শুধু একটা নাম,
একটা গল্প,
একটু জায়গা—
এই ধুলো-মাটির পৃথিবীতে।
কিন্তু সব প্রশ্নই নিষিদ্ধ হলে,
উত্তরগুলো কীভাবে জন্ম নেবে?
চলো, দেরি কোরো না আর,
এই নাটকের শেষ দৃশ্য শুরু হোক।
সরিয়ে দাও কাঠের পাটাতন,
আজ আমি বাতাসের সঙ্গী।