খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হোসেনের গ্রামের বাড়িতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এটিকে ‘ডাকাতি’ বলে দাবি করলেও, স্থানীয় পুলিশ এটিকে ‘চুরি’ বলেই গণ্য করছে। এ নিয়ে মামলা গ্রহণে দ্বিধা প্রকাশ করেছে তারা।
শনিবার (৩১ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা মুরাদ হোসেন বর্তমানে গোপালগঞ্জ থানায় এসআই পদে কর্মরত।
ভুক্তভোগী মুরাদ হোসেনের মা মমতাজ বেগম জানান, রাতের গভীরে দোতলা বাড়ির নিচতলার একটি জানালার থাই গ্লাস ভেঙে এবং গ্রিল কেটে দুজন মুখোশধারী ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা অস্ত্র দেখিয়ে মমতাজ বেগম ও তাঁর ছেলের স্ত্রীকে জিম্মি করে। পরে ছেলের বউয়ের কান থেকে পাঁচ আনা ওজনের সোনার দুল (প্রায় ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের) খুলে নিয়ে যায়। পরিবারটির দাবি, বাড়ির বাইরে আরও ১০-১২ জন সদস্য পাহারায় ছিল।
পরদিন রবিবার (১ জুন) দুপুরে মমতাজ বেগম থানায় গিয়ে ‘ডাকাতি’র অভিযোগ দিয়ে মামলা করার চেষ্টা করলে পুলিশ তা গ্রহণে আপত্তি জানায় এবং ঘটনাটিকে ‘চুরি’ হিসেবে উল্লেখ করার পরামর্শ দেয়।
এসআই মুরাদ হোসেন বলেন, ‘মুখোশধারী ব্যক্তিরা অস্ত্র নিয়ে আমাদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার লুট করেছে। আমরা এটা স্পষ্টভাবে ডাকাতি বলেই দেখছি। কিন্তু থানা পুলিশ ডাকাতির মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানার এসআই সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনার পরপরই পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে ঘটনাটি ডাকাতি মনে হয়নি। বাড়ির ভেতরে দুইজন প্রবেশ করেছিল এবং বড় ধরনের ভাঙচুর বা সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিতে অস্ত্র ব্যবহার সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এছাড়া ডাকাতি আইনে মামলা নিতে হলে পাঁচজন বা তার বেশি সদস্য জড়িত থাকতে হয়। এখানে দুজন প্রবেশ করেছে, তাই এটিকে চুরি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘটনাটিকে ‘চুরি’ হিসেবে বিবেচনা করে অভিযোগ নিতে বলা হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত ধরন নির্ণয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ভুক্তভোগী পরিবার ডাকাতির মামলা গ্রহণ ও সঠিক বিচার দাবিতে অনড় রয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি