খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
নোয়াখালীর সেনবাগ ও সুবর্ণচর উপজেলায় আকস্মিক টর্নেডোর আঘাতে চারটি গ্রাম সম্পূর্ণ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। মাত্র ২-৩ মিনিটের স্থায়ী এই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়টি অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও মসজিদ বিধ্বস্ত করেছে, আর উপড়ে ফেলেছে শত শত গাছপালা। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে নোয়াখালীর নবীপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম যথা বিষ্ণুপুর, দেবীসিংপুর, গোপালপুর এবং সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের হাবিবিয়া গ্রামে আঘাত হানে এক আকস্মিক টর্নেডো, যা মাত্র ২-৩ মিনিটের তাণ্ডবেই লন্ডভন্ড করে দেয় চারটি গ্রাম। ঘন্টায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া এই টর্নেডোর সঙ্গে ছিল ভারী বৃষ্টিপাত, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই টর্নেডো বহু ঘরবাড়ির টিন উড়িয়ে নেয়, গাছ পড়ে ঘর ধসে পড়ে এবং ঘরের ছাউনি উড়ে যায়। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ায় সড়ক ও গ্রামীণ পথঘাট বন্ধ হয়ে যায়।
নবীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আমিন উল্লা জানান, এই আকস্মিক টর্নেডোর আঘাতে বিষ্ণুপুর গ্রামের আটটি, দেবীসিংপুর গ্রামের সাতটি এবং গোপালপুর গ্রামের ছয়টি বসতঘর সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৩০টি বসতঘর। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুৎ লাইনেরও, যার ফলে টর্নেডোর পর থেকে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
সুবর্ণচরের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা নুর নবী বলেন, “এমন ঝড় আগে কখনো দেখিনি। ঝড়টা এত দ্রুত এসেছিল যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার ঘরের ওপর বড় গাছ পড়ে গেল। আমরা কোনোমতে প্রাণ নিয়ে বের হতে পেরেছি।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা সবাই কৃষক ও দিনমজুর। বসতঘর ছাড়াও গ্রামের অসংখ্য গাছপালা ভেঙে যাওয়ায় তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকে এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।
সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন এবং সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আফসার সায়মা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে স্থানীয়ভাবে এ ধরনের টর্নেডো সৃষ্টি হতে পারে। তারা বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে লোক পাঠিয়েছেন এবং সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা আরও বলেন, টর্নেডোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
খবরওয়ালা/টি