খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই আগস্ট ২০২৫, ৮:৩০ এএম
রাজধানীর নামকরা অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের কোচিং করাতে বাধ্য করার নতুন কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘ডিটেনশন’। হোমওয়ার্ক না করা বা ক্লাসে পড়া না পারাসহ নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ছুটি শেষে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত আটক রাখা হয়। কিন্তু অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের অভিযোগ—এটি মানসিক নির্যাতনের নতুন রূপ, যা কোচিং-বাণিজ্যের অংশ।
ঢাকার পাঁচটি নামকরা স্কুলের ২০ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে শিক্ষকরা কোচিং না করলে নম্বর কম দিতেন বা খারাপ আচরণ করতেন। এখন ডিটেনশনের নামে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছে। কোচিং করা শিক্ষার্থীরা ছুটি শেষে বের হয়ে গেলেও বাকি শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয় এবং খারাপ আচরণসহ নানা অপমান করা হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্কুলবিমুখ হয়ে পড়ছে।
২১ জুলাই উত্তরা দিয়াবাড়ীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষার্থী। জানা গেছে, সেদিন ছুটি শেষে ডিটেনশনের কারণে ৪০ শিক্ষার্থীকে ভবনে আটকে রাখা হয়েছিল। হোমওয়ার্ক না করায় ষষ্ঠ শ্রেণির নাজিয়া ডিটেনশনে ছিল এবং তার ছোট ভাই নাফি বোনকে নিতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায়। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বাবা আশরাফুল ইসলাম বলেন,
“সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর আমার সম্পদ বলতে ছিল এই দুই সন্তান। এখন বেঁচে থাকব কীভাবে?”
মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বালক শাখার একটি ক্লাসে সম্প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ডিটেনশনে রাখা হয়। বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকেরা বিষয়টি জানার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন। অভিযোগ, গণিতের এক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের তার কাছে কোচিং করতে বাধ্য করতে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিচ্ছেন। কোচিং না করায় তিনি মানসিক নির্যাতন চালান।
শিক্ষাবিদরা বলেন, ডিটেনশন শিক্ষার্থীর আচরণগত উন্নতির জন্য হলেও এখন এটি কোচিং-বাণিজ্যের হাতিয়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক বলেন,
“ক্লাসে শিক্ষকরা এখন শুধু পড়া দেন, পড়া তোলেন না। ব্যাখ্যা বা বোঝানোর কাজটি কোচিংয়ে করান। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সাড়ে ৫ কোটি শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ২৪ লাখ কোনো না কোনোভাবে অর্থের বিনিময়ে কোচিং নিচ্ছে, যা মোট শিক্ষার্থীর ৭৭.০৯%। প্রতি বছর কোচিং সেন্টারগুলো থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা বাণিজ্য হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানেও এই পরিসংখ্যানের সত্যতা পাওয়া গেছে।
খবরওয়ালা /এমএজেড
মন্তব্য