খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক ও এক ব্যক্তির করা চারটি পৃথক আবেদনের ওপর আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানির জন্য এ দিন নির্ধারিত রয়েছে।
এর আগে গত ২১ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা চারটি পৃথক আবেদন শুনানির জন্য ২৬ আগস্ট দিন ঠিক করেন আপিল বিভাগ। বিষয়টি আদালতে উত্থাপনের পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একই বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করে। তখন জামায়াতের পক্ষে বিষয়টি উত্থাপন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা) বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।
ওই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছরের অক্টোবরে আবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি—তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান—পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
এছাড়া গত বছরের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও একটি রিভিউ আবেদন করেন। নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আরেকটি আবেদন করেন। তিনি পঞ্চম সংশোধনী নিয়েও রিভিউ আবেদন করেন। দুই সংশোধনী নিয়ে মোট পাঁচটি রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে।
১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ অন্যরা হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি হয়। পরে বিশেষ বেঞ্চ ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দিয়ে সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে আপিল করা হলে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।
এদিকে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন চ্যালেঞ্জ করে করা রিটগুলোর ওপর শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করে। রায়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানবিরোধী ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল এবং আরও চারটি ধারা বাতিল করা হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন