খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
খুলনার আদালত প্রাঙ্গণে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলের এক মর্মস্পর্শী দৃশ্য। প্রিজন ভ্যানে ওঠানো হচ্ছে আসামিদের। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন শাহাজাদী (৩৬)। চোখ ভরা পানি, চেহারায় অসহায়ত্ব। পাশে এক নারী পুলিশ সদস্যের কোলে তার কেবল ১১ দিনের নবজাতক। ভ্যানে ওঠার পর শিশুটিকে মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কয়েক মুহূর্ত পরই মা ও শিশুকে নিয়ে রওনা দেয় গাড়িটি খুলনা জেলা কারাগারের পথে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর রূপসার একটি হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় শাহাজাদীর পঞ্চম কন্যাসন্তান। কিন্তু ছেলে না হওয়ায় স্বামী সিরাজুল ইসলাম হাসপাতালেই স্ত্রীকে ফেলে চলে যান। এরপর আর খবর নেননি।
পরিবারের চাপ আর হতাশার মধ্যে চার দিন পরই ঘটে যায় অঘটন। একই হাসপাতাল থেকে চুরি হয়ে যায় আরেক প্রসূতির চার দিনের এক নবজাতক ছেলে। দ্রুত পুলিশি তৎপরতায় শিশুটি উদ্ধার হয় শাহাজাদীর মা নার্গিস বেগমের (৫৫) কাছ থেকে। তিনি দাবি করেন—মেয়ের সংসার বাঁচাতেই এমনটা করেছিলেন।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা মির্জা সুজন মানব পাচার আইনে মামলা করেন। মামলায় শাহাজাদী ও তার মা দুজনকেই আসামি করা হয়। বর্তমানে নার্গিস বেগম কারাগারে, আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহাজাদী আদালতে হাজিরার পর নবজাতককে নিয়ে একই গন্তব্যে।
খুলনা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলার পর শাহাজাদীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতে এদিন কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বোধন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় মায়ের সঙ্গে শিশুটিকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ইনামুল হক বলেন, শিশুর জন্মের পর থেকেই স্বামী সিরাজুল আর খোঁজ নেননি। হাসপাতালের বকেয়া টাকাও পরিশোধ করেছিলেন শিশুটির মামা।
এদিকে মামলার বাদী মির্জা সুজন জানিয়েছেন, তিনি আর মামলা চালাতে চান না। তাঁর ভাষায়, ‘আমার সন্তান ফিরে পেয়েছি। ওই নারী আমার বাচ্চাকে বুকের দুধ খাইয়েছেন। আমার ক্ষুদ্র চাকরির পাশাপাশি এত দৌড়াদৌড়ি আর খরচ করা সম্ভব নয়। তাই মামলাটা আর এগিয়ে নিতে চাই না।’
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহীন বলেন, বাদীর এ দাবি সঠিক নয়। তিনি যোগ করেন, ‘পুলিশ জোর করে কারও কাছ থেকে মামলা করাতে পারে না।’
খবরওয়ালা/এন