আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দীর্ঘকাল ধরে আকাশপথে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এবার অবাক করে দিয়েছে আরেক বৈশ্বিক পরাশক্তি চীন। সম্প্রতি তারা নিজেদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রকাশ করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এতে আমেরিকানরা যেন চোখ কপালে তুলেছে। সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিং তাদের সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোকে সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি ‘ফুজিয়ান’ থেকে আকাশে উৎক্ষেপণ করে এক নতুন সামরিক যুগের সূচনা করেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, উন্নত প্রযুক্তির ইলেকট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম (EMALS) ব্যবহার করে আকাশমুখী হচ্ছে পঞ্চম প্রজন্মের জে-৩৫ স্টিলথ ফাইটার, ৪.৫-প্রজন্মের জে-১৫টি ফাইটার এবং কেজে-৬০০ আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল এয়ারক্রাফট।
গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই প্রযুক্তি এতদিন শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ছিল, যা তাদের অত্যাধুনিক ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড রণতরিতে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে চীন সেই মার্কিন প্রযুক্তির অংশীদার হলো। বিশ্লেষকদের মতে, ফুজিয়ানের এই অর্জন কেবল প্রযুক্তিগত সফলতা নয়, কৌশলগত দিক থেকেও এটি একটি বিশাল অগ্রগতি। চীনের পুরোনো যুদ্ধজাহাজ—শ্যানডং এবং লিয়াওনিং-এ এই সুবিধা ছিল না। এখন EMALS প্রযুক্তি ফুজিয়ানকে সম্পূর্ণ নতুন ক্ষমতা দিয়েছে।
এর ফলে, চীনা বিমানগুলো এখন ভারী অস্ত্র এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি নিয়ে আরও বেশি দূরত্বে শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারবে। তবে, একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। মার্কিন রণতরিগুলো নিউক্লিয়ার শক্তি দ্বারা চালিত হওয়ায় তারা দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে, অন্যদিকে ফুজিয়ান এখনও প্রচলিত জ্বালানি দিয়েই চলছে। এর অর্থ হলো, চীনা যুদ্ধজাহাজকে নির্দিষ্ট বিরতিতে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য বন্দরে ভিড়তে হয় অথবা সমুদ্রে ট্যাঙ্কার থেকে তেল নিতে হয়।
এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রদর্শনের মাঝেই মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল বেইজিং সফর করছে। প্রতিনিধি দলের প্রধান মার্কিন কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম স্মিথ সতর্ক করে বলেছেন, চীন হলো পৃথিবীর দ্রুততম বর্ধনশীল সামরিক ও পারমাণবিক শক্তি, আর অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আছে বিশ্বের বৃহত্তম সেনাবাহিনী ও পারমাণবিক ভান্ডার। তার মতে, নিয়মিত আলোচনার ঘাটতি মারাত্মক ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে তাইওয়ান প্রণালি পর্যন্ত—চীন তার সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন করে এক জোরালো বার্তা দিল। এই প্রযুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন ক্ষমতার লড়াই শুরু হতে চলেছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন